English / বাংলা
Editorial News 24

বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ



বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ
আহসান এইচ মনসুর

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মতে, সরকার চাহিদা বৃদ্ধি করে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর চেষ্টা করলেও বাজেটের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে এত বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। রাজস্ব আদায় কম হলে বাজেটঘাটতি আরও বাড়বে এবং তখন সরকারকে হয় ব্যয় কমাতে হবে, নয়তো ঋণ বা টাকা ছাপিয়ে অর্থায়নের পথ বেছে নিতে হবে।

সাবেক গভর্নরের মতে, ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাত অর্থসংকটে পড়বে। কারণ দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান প্রায় ৮৬ শতাংশ। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি ঋণ ও সহায়তা পাওয়ার যে লক্ষ্য বাজেটে ধরা হয়েছে, সেটিও অর্জন কঠিন হবে। এতে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ওপর চাপ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ এবং আমানত প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে বাজেটে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রণোদনা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তার উদ্যোগকে তিনি প্রশংসা করেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ কমানো ছাড়া এত বড় ঘাটতি বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, “বাস্তবতা মেনে ব্যয় কমিয়ে অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে সরকার চাহিদা বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মতে, সরকার চাহিদা বৃদ্ধি করে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর চেষ্টা করলেও বাজেটের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে এত বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। রাজস্ব আদায় কম হলে বাজেটঘাটতি আরও বাড়বে এবং তখন সরকারকে হয় ব্যয় কমাতে হবে, নয়তো ঋণ বা টাকা ছাপিয়ে অর্থায়নের পথ বেছে নিতে হবে।

সাবেক গভর্নরের মতে, ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাত অর্থসংকটে পড়বে। কারণ দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান প্রায় ৮৬ শতাংশ। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি ঋণ ও সহায়তা পাওয়ার যে লক্ষ্য বাজেটে ধরা হয়েছে, সেটিও অর্জন কঠিন হবে। এতে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ওপর চাপ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ এবং আমানত প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে বাজেটে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রণোদনা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তার উদ্যোগকে তিনি প্রশংসা করেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ কমানো ছাড়া এত বড় ঘাটতি বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, “বাস্তবতা মেনে ব্যয় কমিয়ে অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে সরকার চাহিদা বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0