ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ জিসান মিয়াকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১১ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়ার ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে পরিকল্পিত ছিল।
পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এক নারীর সঙ্গে জিসান মিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে বিয়ে না করে তিনি আত্মগোপনে যান এবং তার স্বজনদের মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানো হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, তিনি লাকসাম এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি থানায় হাজির হন।
বিরোধীদলের প্রতিবাদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, একজন ছাত্রনেতাকে কেন্দ্র করে সংসদে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্যবস্তু করার শামিল। তার দাবি, সংসদের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট দলকে উদ্দেশ্য করে এভাবে চরিত্রহননমূলক বক্তব্য দেওয়ার নজির খুবই বিরল।
ডা. তাহের আরও প্রশ্ন তোলেন, জিসান মিয়ার বর্তমান অবস্থান কী এবং কেন সংশ্লিষ্ট নারী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গণমাধ্যমের যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রতিবাদে সমর্থন জানান। অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরা পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালে সংসদ কক্ষে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ৩০০ বিধিতে প্রদত্ত বক্তব্যের ওপর সরাসরি প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তবে বিরোধীদলের উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।তিনি জানান, বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় বা নীতিবহির্ভূত শব্দ ব্যবহার হয়ে থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরে ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর নির্ধারিত আলোচনা শুরু হয়।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ জিসান মিয়াকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১১ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়ার ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে পরিকল্পিত ছিল।
পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এক নারীর সঙ্গে জিসান মিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে বিয়ে না করে তিনি আত্মগোপনে যান এবং তার স্বজনদের মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানো হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, তিনি লাকসাম এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি থানায় হাজির হন।
বিরোধীদলের প্রতিবাদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, একজন ছাত্রনেতাকে কেন্দ্র করে সংসদে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্যবস্তু করার শামিল। তার দাবি, সংসদের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট দলকে উদ্দেশ্য করে এভাবে চরিত্রহননমূলক বক্তব্য দেওয়ার নজির খুবই বিরল।
ডা. তাহের আরও প্রশ্ন তোলেন, জিসান মিয়ার বর্তমান অবস্থান কী এবং কেন সংশ্লিষ্ট নারী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গণমাধ্যমের যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রতিবাদে সমর্থন জানান। অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরা পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালে সংসদ কক্ষে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ৩০০ বিধিতে প্রদত্ত বক্তব্যের ওপর সরাসরি প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তবে বিরোধীদলের উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।তিনি জানান, বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় বা নীতিবহির্ভূত শব্দ ব্যবহার হয়ে থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরে ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর নির্ধারিত আলোচনা শুরু হয়।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন