ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সম্ভাব্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কয়েক দিন সময় চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চুক্তিতে সইয়ের আগে বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করতে চান তিনি।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। এর পরই ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় চাওয়ার কথা জানান।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে নিশ্চিত বার্তা না পাওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের চুক্তিতে সই করার সম্ভাবনা কম।
আলোচনায় থাকা খসড়া অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্থাপন করা সামুদ্রিক মাইন অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এর বিনিময়ে ইরানের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত সমঝোতায় একটি পর্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর কথাও রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ধীরে ধীরে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের স্থগিত থাকা তহবিল ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে কাতারসহ তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পারস্য উপসাগরীয় ধনী দেশগুলো অর্থায়ন করতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—এখনও চূড়ান্ত আলোচনার বাইরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার দিক এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ বা ধ্বংসে সম্মত হোক।
ইউরেনিয়াম কীভাবে এবং কোথায় অপসারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরবর্তী দফার আলোচনায় নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র: সিএনএন
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সম্ভাব্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কয়েক দিন সময় চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চুক্তিতে সইয়ের আগে বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করতে চান তিনি।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। এর পরই ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় চাওয়ার কথা জানান।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে নিশ্চিত বার্তা না পাওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের চুক্তিতে সই করার সম্ভাবনা কম।
আলোচনায় থাকা খসড়া অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্থাপন করা সামুদ্রিক মাইন অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এর বিনিময়ে ইরানের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত সমঝোতায় একটি পর্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর কথাও রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ধীরে ধীরে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের স্থগিত থাকা তহবিল ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে কাতারসহ তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পারস্য উপসাগরীয় ধনী দেশগুলো অর্থায়ন করতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—এখনও চূড়ান্ত আলোচনার বাইরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার দিক এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ বা ধ্বংসে সম্মত হোক।
ইউরেনিয়াম কীভাবে এবং কোথায় অপসারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরবর্তী দফার আলোচনায় নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র: সিএনএন
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন