English / বাংলা
Editorial News 24

সরকারি সূত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে

পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ



পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের আটক রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির গঠনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম এ উদ্যোগ নেওয়া হলো।

সরকারি সূত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। কারাদণ্ড শেষে মুক্তি পাওয়া বিদেশিদেরও এখানে রাখা হতে পারে।

গত সপ্তাহের শেষে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এক নোটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের কথা বলা হয়।

পরিচয় যাচাই ও আটক প্রক্রিয়া

নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে প্রত্যর্পণের জন্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এসব কেন্দ্রে রাখা হবে।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি করা রাজ্যের পুলিশের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই করা হবে। এই সময়ের মধ্যে তথ্য না এলে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRRO) প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা নেবে।

অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে আগে থেকেই এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার চালু রয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটক রাখা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিক, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদেরও আটক করার অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়ার সময় কয়েকদিন ধরে আটক থাকার ফলে অনেকে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এবং পরে তাদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মুক্তি পেয়েছেন।

বিতর্ক ও মানবাধিকার উদ্বেগ

এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। আটক অবস্থায় পর্যাপ্ত খাবার, যোগাযোগের সুযোগ এবং মৌলিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, সন্দেহের ভিত্তিতে বহু নিরীহ মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং পরে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুশব্যাক ও প্রত্যর্পণ বিতর্ক

কিছু ক্ষেত্রে যাচাইয়ের পরেও অনেককে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে এর মধ্যে কিছু ব্যক্তিকে আবার ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ভারতের আইন অনুযায়ী, অবৈধ বিদেশিদের আদালতের মাধ্যমে শনাক্ত করে সাজা শেষে প্রত্যর্পণ করা হয়। তবে নতুন নির্দেশনায় প্রশাসনিক পর্যায়ে দ্রুত শনাক্ত ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জোরদার করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

এই উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—আসলেই পশ্চিমবঙ্গে কতজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রয়েছে এবং এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা কতটা।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া ও হোল্ডিং সেন্টার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য না থাকলে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের আটক রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির গঠনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম এ উদ্যোগ নেওয়া হলো।

সরকারি সূত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। কারাদণ্ড শেষে মুক্তি পাওয়া বিদেশিদেরও এখানে রাখা হতে পারে।

গত সপ্তাহের শেষে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এক নোটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের কথা বলা হয়।

পরিচয় যাচাই ও আটক প্রক্রিয়া

নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে প্রত্যর্পণের জন্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এসব কেন্দ্রে রাখা হবে।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি করা রাজ্যের পুলিশের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই করা হবে। এই সময়ের মধ্যে তথ্য না এলে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRRO) প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা নেবে।

অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে আগে থেকেই এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার চালু রয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটক রাখা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিক, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদেরও আটক করার অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়ার সময় কয়েকদিন ধরে আটক থাকার ফলে অনেকে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এবং পরে তাদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মুক্তি পেয়েছেন।

বিতর্ক ও মানবাধিকার উদ্বেগ

এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। আটক অবস্থায় পর্যাপ্ত খাবার, যোগাযোগের সুযোগ এবং মৌলিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, সন্দেহের ভিত্তিতে বহু নিরীহ মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং পরে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুশব্যাক ও প্রত্যর্পণ বিতর্ক

কিছু ক্ষেত্রে যাচাইয়ের পরেও অনেককে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে এর মধ্যে কিছু ব্যক্তিকে আবার ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ভারতের আইন অনুযায়ী, অবৈধ বিদেশিদের আদালতের মাধ্যমে শনাক্ত করে সাজা শেষে প্রত্যর্পণ করা হয়। তবে নতুন নির্দেশনায় প্রশাসনিক পর্যায়ে দ্রুত শনাক্ত ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জোরদার করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

এই উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—আসলেই পশ্চিমবঙ্গে কতজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রয়েছে এবং এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা কতটা।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া ও হোল্ডিং সেন্টার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য না থাকলে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0