English / বাংলা
Editorial News 24

পল্লবীতে নির্মম ঘটনার পর 'দ্রুত বিচার' ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফুঁসছে দেশ; আইনের কঠোর প্রয়োগ চান নাগরিকরা

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?



শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "Justice for Ramisa" হ্যাশট্যাগ দিয়ে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।

এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন কী বলে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কৌতুহল রয়েছে।

আইনে ধর্ষণের শাস্তি কী?

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অত্যন্ত কঠোর আইন রয়েছে। মূলত 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০' (২০২০ সালের সংশোধনীসহ) অনুযায়ী এই বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো নিম্নরূপ:

ধর্ষণের ফলে মৃত্যু ঘটলে (ধারা ৯-২):যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের কারণে বা ধর্ষণের পর তার মৃত্যু ঘটায়, তবে আইন অনুযায়ী অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। একই সাথে অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। রামিসা মামলার ক্ষেত্রে এই ধারাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

শুধু একক ধর্ষণের শাস্তি (ধারা ৯-১):আইন অনুযায়ী, কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

দলবদ্ধ ধর্ষণ (ধারা ৯-৩):যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং তার ফলে যদি ভুক্তভোগী আহত বা নিহত হন, তবে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিশেষ আদালত ও দ্রুত বিচার:এই ধরনের অপরাধের বিচার সাধারণ আদালতে না হয়ে বিশেষায়িত 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল'-এ অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী, মামলা প্রাপ্তির পর নির্দিষ্ট কর্মদিবসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে।

বর্তমান পরিস্থিতি

রামিসা হত্যাকাণ্ডের স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ জুন চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। প্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

নাগরিক সমাজের দাবি, শুধু আইন থাকাই যথেষ্ট নয়; রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নির্মমতার শিকার হতে না হয়, সেজন্য এই আইনের দৃষ্টান্তমূলক এবং দ্রুততম বাস্তবায়ন জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "Justice for Ramisa" হ্যাশট্যাগ দিয়ে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।

এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন কী বলে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কৌতুহল রয়েছে।

আইনে ধর্ষণের শাস্তি কী?

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অত্যন্ত কঠোর আইন রয়েছে। মূলত 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০' (২০২০ সালের সংশোধনীসহ) অনুযায়ী এই বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো নিম্নরূপ:

ধর্ষণের ফলে মৃত্যু ঘটলে (ধারা ৯-২):যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের কারণে বা ধর্ষণের পর তার মৃত্যু ঘটায়, তবে আইন অনুযায়ী অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। একই সাথে অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। রামিসা মামলার ক্ষেত্রে এই ধারাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

শুধু একক ধর্ষণের শাস্তি (ধারা ৯-১):আইন অনুযায়ী, কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

দলবদ্ধ ধর্ষণ (ধারা ৯-৩):যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং তার ফলে যদি ভুক্তভোগী আহত বা নিহত হন, তবে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিশেষ আদালত ও দ্রুত বিচার:এই ধরনের অপরাধের বিচার সাধারণ আদালতে না হয়ে বিশেষায়িত 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল'-এ অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী, মামলা প্রাপ্তির পর নির্দিষ্ট কর্মদিবসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে।

বর্তমান পরিস্থিতি

রামিসা হত্যাকাণ্ডের স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ জুন চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। প্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

নাগরিক সমাজের দাবি, শুধু আইন থাকাই যথেষ্ট নয়; রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নির্মমতার শিকার হতে না হয়, সেজন্য এই আইনের দৃষ্টান্তমূলক এবং দ্রুততম বাস্তবায়ন জরুরি।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0