English / বাংলা
Editorial News 24

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল বাস কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহর। একা যাত্রা করা কিশোরী রাতে গন্তব্যে পৌঁছালে ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। তবে যাত্রার সময় কিংবা কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাস থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠা তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি ধানখেত থেকে।

তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে শঙ্কা ছিল বাস কাউন্টারকর্মীর, তবু ঠেকানো যায়নি মর্মান্তিক পরিণতি


প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে শঙ্কা ছিল বাস কাউন্টারকর্মীর, তবু ঠেকানো যায়নি মর্মান্তিক পরিণতি

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল বাস কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহর। একা যাত্রা করা কিশোরী রাতে গন্তব্যে পৌঁছালে ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। তবে যাত্রার সময় কিংবা কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাস থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠা তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি ধানখেত থেকে।

পুলিশের দাবি, তাজমিনকে হত্যা করেছেন সিএনজিচালক সুমন মিয়া (৩৫)। এ ঘটনায় তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে কিশোরীর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে।

কক্সবাজার আইকনিক বাস কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহ জানান, তাজমিন ও তার সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন রাজু ওরফে রাজু চৌধুরীকে (২০) দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, একা একটি মেয়ের রাতে কুমিল্লায় পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে যাত্রীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাঁদের কিছু বলেননি।

তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ৬ অক্টোবর রাতে সে ও রাজু কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার বাসের টিকিট কাটতে যায়। পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার বাসের টিকিট নেওয়া হয়। বাসটি ছাড়ে দুপুর ১টার দিকে। তাজমিন একা যাত্রা করবে বলে তার জন্য আলাদা একটি আসনের টিকিট কাটেন রাজু।

রাজুর দাবি, তাজমিন যাতে নিরাপদে কুমিল্লার বাসায় পৌঁছাতে পারে, সে জন্য যাত্রাপথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। কিন্তু যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাজমিনের পরিণতি হয় মর্মান্তিক।

আটক রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি হাতঘড়ি নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাড়ি ছেড়েছিল তাজমিন। সে রাজুকে জানিয়েছিল, তার মা মারা গেছেন এবং বর্তমানে যাঁর সঙ্গে বিরোধ হয়েছে, তিনি তার সৎমা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর বাসায় যায় সে। পরে কুমিল্লায় ফিরে সেখান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করার সময় থেকেই রাজুর সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। গত ৬ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারে পৌঁছায় তাজমিন।

তবে তাজমিনের পরিবারের দাবি, ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সে নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করছিল। এ সময় মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও সে কোথায় ছিল কিংবা কার সঙ্গে অবস্থান করছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি তাঁরা।তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর তাজমিনের আইফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

রাজুর দাবি, কক্সবাজারে অবস্থানকালে তাজমিনের বাবা একাধিকবার তাঁকে ফোন করে মেয়ের অবস্থান জানতে চান এবং বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করেন। বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তাজমিনকে দ্রুত বাড়ি ফেরার আশ্বাস দিতে শুনেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরই ৬ অক্টোবর রাতে দুজন আইকনিক এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের টিকিট কাটেন।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন জানান, ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছে। মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চাইলেও বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার পরিচয় জানতে পারেননি তিনি।

মেয়ের বন্ধুবান্ধব ও চলাফেরা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি বলেও জানান তিনি। মেয়ের চলাফেরার ওপর নজর রাখার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করতে পারেননি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের মা যে বান্ধবীর কথা বলেছেন, তিনি বয়সে তাজমিনের চেয়ে বড়। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তিনি কুমিল্লায় থাকেন। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই নারীর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে রাজুর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাজমিনকে পড়িয়েছেন। মেয়েটি ছিল চঞ্চল স্বভাবের। মা অসুস্থ থাকলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখাশোনাও করত সে। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে ফিরতেন। শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাগ হলে তাজমিন মাঝেমধ্যে হুট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেত।

কেন তাজমিন বাড়ি ছেড়েছিল, তার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ কিংবা বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটা জড়িত ছিল এবং কক্সবাজারে যাওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল—এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তার বাড়ি ছাড়ার পর থেকে হত্যাকাণ্ডের আগপর্যন্ত কোথায় ছিল, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং কীভাবে কুমিল্লায় ফিরেছে, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তিনি শনিবার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এদিকে, কক্সবাজারে তাজমিনের অবস্থান এবং তার সঙ্গে রাজুর সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত রোববার রাতে কক্সবাজার থেকে রাজুকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে গেছেন বলে জানা গেছে।

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যাকারী শনাক্তের পাশাপাশি বাড়ি ছাড়ার পর থেকে তার শেষ যাত্রা পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্‌ঘাটন এখন তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে শঙ্কা ছিল বাস কাউন্টারকর্মীর, তবু ঠেকানো যায়নি মর্মান্তিক পরিণতি

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল বাস কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহর। একা যাত্রা করা কিশোরী রাতে গন্তব্যে পৌঁছালে ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। তবে যাত্রার সময় কিংবা কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাস থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠা তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি ধানখেত থেকে।

পুলিশের দাবি, তাজমিনকে হত্যা করেছেন সিএনজিচালক সুমন মিয়া (৩৫)। এ ঘটনায় তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে কিশোরীর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে।

কক্সবাজার আইকনিক বাস কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহ জানান, তাজমিন ও তার সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন রাজু ওরফে রাজু চৌধুরীকে (২০) দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, একা একটি মেয়ের রাতে কুমিল্লায় পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে যাত্রীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাঁদের কিছু বলেননি।

তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ৬ অক্টোবর রাতে সে ও রাজু কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার বাসের টিকিট কাটতে যায়। পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার বাসের টিকিট নেওয়া হয়। বাসটি ছাড়ে দুপুর ১টার দিকে। তাজমিন একা যাত্রা করবে বলে তার জন্য আলাদা একটি আসনের টিকিট কাটেন রাজু।

রাজুর দাবি, তাজমিন যাতে নিরাপদে কুমিল্লার বাসায় পৌঁছাতে পারে, সে জন্য যাত্রাপথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। কিন্তু যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাজমিনের পরিণতি হয় মর্মান্তিক।

আটক রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি হাতঘড়ি নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাড়ি ছেড়েছিল তাজমিন। সে রাজুকে জানিয়েছিল, তার মা মারা গেছেন এবং বর্তমানে যাঁর সঙ্গে বিরোধ হয়েছে, তিনি তার সৎমা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর বাসায় যায় সে। পরে কুমিল্লায় ফিরে সেখান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করার সময় থেকেই রাজুর সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। গত ৬ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারে পৌঁছায় তাজমিন।

তবে তাজমিনের পরিবারের দাবি, ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সে নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করছিল। এ সময় মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও সে কোথায় ছিল কিংবা কার সঙ্গে অবস্থান করছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি তাঁরা।তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর তাজমিনের আইফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

রাজুর দাবি, কক্সবাজারে অবস্থানকালে তাজমিনের বাবা একাধিকবার তাঁকে ফোন করে মেয়ের অবস্থান জানতে চান এবং বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করেন। বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তাজমিনকে দ্রুত বাড়ি ফেরার আশ্বাস দিতে শুনেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরই ৬ অক্টোবর রাতে দুজন আইকনিক এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের টিকিট কাটেন।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন জানান, ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছে। মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চাইলেও বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার পরিচয় জানতে পারেননি তিনি।

মেয়ের বন্ধুবান্ধব ও চলাফেরা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি বলেও জানান তিনি। মেয়ের চলাফেরার ওপর নজর রাখার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করতে পারেননি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের মা যে বান্ধবীর কথা বলেছেন, তিনি বয়সে তাজমিনের চেয়ে বড়। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তিনি কুমিল্লায় থাকেন। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই নারীর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে রাজুর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাজমিনকে পড়িয়েছেন। মেয়েটি ছিল চঞ্চল স্বভাবের। মা অসুস্থ থাকলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখাশোনাও করত সে। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে ফিরতেন। শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাগ হলে তাজমিন মাঝেমধ্যে হুট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেত।

কেন তাজমিন বাড়ি ছেড়েছিল, তার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ কিংবা বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটা জড়িত ছিল এবং কক্সবাজারে যাওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল—এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তার বাড়ি ছাড়ার পর থেকে হত্যাকাণ্ডের আগপর্যন্ত কোথায় ছিল, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং কীভাবে কুমিল্লায় ফিরেছে, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তিনি শনিবার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এদিকে, কক্সবাজারে তাজমিনের অবস্থান এবং তার সঙ্গে রাজুর সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত রোববার রাতে কক্সবাজার থেকে রাজুকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে গেছেন বলে জানা গেছে।

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যাকারী শনাক্তের পাশাপাশি বাড়ি ছাড়ার পর থেকে তার শেষ যাত্রা পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্‌ঘাটন এখন তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0