English / বাংলা
Editorial News 24

রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রীকে পায়ে শিকল পরিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে বেল্ট দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সোহেল শিকদারের (৩১) বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের ভিডিও নিজেই ধারণ করে স্ত্রীর স্বজনদের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। এর তিন দিন পর একই বাসা থেকে মুক্তা ইসলাম মাওয়া (২৫) নামের ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, তিন দিন পর উদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ


প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, তিন দিন পর উদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ

রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রীকে পায়ে শিকল পরিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে বেল্ট দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সোহেল শিকদারের (৩১) বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের ভিডিও নিজেই ধারণ করে স্ত্রীর স্বজনদের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। এর তিন দিন পর একই বাসা থেকে মুক্তা ইসলাম মাওয়া (২৫) নামের ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ এবং যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্বামী। সর্বশেষ নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খিলক্ষেতের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৩০ আগস্ট মুক্তাকে মারধরের একটি ভিডিও তাঁর স্বজনের মোবাইল ফোনে পাঠান সোহেল। প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে মুক্তাকে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা যায়।ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তার পায়ে শিকল লাগানো। সোহেল একটি বেল্ট দিয়ে তাঁকে একের পর এক আঘাত করছেন। একপর্যায়ে তাঁর শরীরে আঘাতের দাগও দেখা যায়।ভিডিওতে মুক্তাকে স্বামীর কাছে নিজের কোনো অপরাধ নেই এবং তিনি তাঁকে ভালোবাসেন বলে বলতে শোনা যায়। এ সময় পাশের কক্ষে থাকা তাঁদের দুই সন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়ার (৪) কান্নার শব্দও শোনা যায়।

পরিবারের ভাষ্য, নির্যাতনের একপর্যায়ে মুক্তা তাঁর স্বামীকে সন্তান দুটিকে ঘুম পাড়িয়ে আসার সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও মারধর বন্ধ হয়নি।ভিডিওটি পাওয়ার পর মুক্তার স্বজনরা তাঁকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর ওই বাসায় গিয়ে তাঁরা মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি ফ্যান থেকে নামিয়ে ফেলা হয়েছিল।

মুক্তার মৃত্যুর ঘটনায় পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন তাঁর ছোট ভাই তানভীর রহমান। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, পরকীয়ার সন্দেহে মুক্তাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। একই সঙ্গে যৌতুকের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল।তানভীর রহমানের দাবি, কয়েক মাস আগে তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিলেন সোহেল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাঁর বোনকে মারধর করা হতো। তিনি বলেন, মাকে হারিয়ে মুক্তার দুই সন্তান এখন সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। একই এলাকার সোহেল শিকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে খিলক্ষেতের ওই বাসায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন মুক্তা।

স্বজনদের ভাষ্য, সোহেল আগে খিলক্ষেত এলাকায় মুদি দোকান পরিচালনা করতেন। পরে এমব্রয়ডারি ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসায় প্রত্যাশিত সাফল্য না আসার পর দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, মুক্তাকে মারধরের ভিডিওটি তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগের। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, তিন দিন পর উদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রীকে পায়ে শিকল পরিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে বেল্ট দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সোহেল শিকদারের (৩১) বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের ভিডিও নিজেই ধারণ করে স্ত্রীর স্বজনদের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। এর তিন দিন পর একই বাসা থেকে মুক্তা ইসলাম মাওয়া (২৫) নামের ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ এবং যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্বামী। সর্বশেষ নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খিলক্ষেতের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৩০ আগস্ট মুক্তাকে মারধরের একটি ভিডিও তাঁর স্বজনের মোবাইল ফোনে পাঠান সোহেল। প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে মুক্তাকে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা যায়।ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তার পায়ে শিকল লাগানো। সোহেল একটি বেল্ট দিয়ে তাঁকে একের পর এক আঘাত করছেন। একপর্যায়ে তাঁর শরীরে আঘাতের দাগও দেখা যায়।ভিডিওতে মুক্তাকে স্বামীর কাছে নিজের কোনো অপরাধ নেই এবং তিনি তাঁকে ভালোবাসেন বলে বলতে শোনা যায়। এ সময় পাশের কক্ষে থাকা তাঁদের দুই সন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়ার (৪) কান্নার শব্দও শোনা যায়।

পরিবারের ভাষ্য, নির্যাতনের একপর্যায়ে মুক্তা তাঁর স্বামীকে সন্তান দুটিকে ঘুম পাড়িয়ে আসার সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও মারধর বন্ধ হয়নি।ভিডিওটি পাওয়ার পর মুক্তার স্বজনরা তাঁকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর ওই বাসায় গিয়ে তাঁরা মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি ফ্যান থেকে নামিয়ে ফেলা হয়েছিল।

মুক্তার মৃত্যুর ঘটনায় পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন তাঁর ছোট ভাই তানভীর রহমান। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, পরকীয়ার সন্দেহে মুক্তাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। একই সঙ্গে যৌতুকের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল।তানভীর রহমানের দাবি, কয়েক মাস আগে তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিলেন সোহেল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাঁর বোনকে মারধর করা হতো। তিনি বলেন, মাকে হারিয়ে মুক্তার দুই সন্তান এখন সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। একই এলাকার সোহেল শিকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে খিলক্ষেতের ওই বাসায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন মুক্তা।

স্বজনদের ভাষ্য, সোহেল আগে খিলক্ষেত এলাকায় মুদি দোকান পরিচালনা করতেন। পরে এমব্রয়ডারি ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসায় প্রত্যাশিত সাফল্য না আসার পর দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, মুক্তাকে মারধরের ভিডিওটি তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগের। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0