কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলীনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আর ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি।জানা যায়, দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে আসেন জুহায়ের। হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছালে আলীনুর তার কাছে গিয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন জুহায়ের। অন্য শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও আলীনুর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। পরে তিনি হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে চলে যান।
এ ঘটনার খবর পেয়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনুরের কক্ষ ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন। সেখানে ভুক্তভোগী জুহায়ের উপস্থিত থাকলেও উত্তেজিত শিবির কর্মীদের উপস্থিতির কারণে অভিযুক্ত আলীনুরকে সভায় আনা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতারা সভা থেকে বের হয়ে যান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশি সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে আলীনুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় শিবিরের কয়েকজন কর্মী তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে একটি গাড়ি আটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে মহড়া দিতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অন্যদিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন হলের পকেট গেট ও আজিজ হলের পকেট গেটে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে ফিরছিলেন তিনি। পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্র্যাচে ভর করে ধীরে হাঁটছিলেন। এ সময় আলীনুর হঠাৎ এসে তাকে থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। পূর্বে আলীনুরের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আলীনুর রহমান বলেন, জুহায়েরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ‘বেয়াদব’ বলেছিলেন। পরে জুহায়ের তাকে গালি দিলে তিনি তাকে থাপ্পড় দেন। তবে এর আগে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে।
ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, তাদের হল সেক্রেটারির ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করা হয়েছে। শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রদলের বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সমাধানে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলীনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আর ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি।জানা যায়, দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে আসেন জুহায়ের। হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছালে আলীনুর তার কাছে গিয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন জুহায়ের। অন্য শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও আলীনুর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। পরে তিনি হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে চলে যান।
এ ঘটনার খবর পেয়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনুরের কক্ষ ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন। সেখানে ভুক্তভোগী জুহায়ের উপস্থিত থাকলেও উত্তেজিত শিবির কর্মীদের উপস্থিতির কারণে অভিযুক্ত আলীনুরকে সভায় আনা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতারা সভা থেকে বের হয়ে যান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশি সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে আলীনুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় শিবিরের কয়েকজন কর্মী তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে একটি গাড়ি আটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে মহড়া দিতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অন্যদিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন হলের পকেট গেট ও আজিজ হলের পকেট গেটে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে ফিরছিলেন তিনি। পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্র্যাচে ভর করে ধীরে হাঁটছিলেন। এ সময় আলীনুর হঠাৎ এসে তাকে থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। পূর্বে আলীনুরের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আলীনুর রহমান বলেন, জুহায়েরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ‘বেয়াদব’ বলেছিলেন। পরে জুহায়ের তাকে গালি দিলে তিনি তাকে থাপ্পড় দেন। তবে এর আগে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে।
ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, তাদের হল সেক্রেটারির ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করা হয়েছে। শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রদলের বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সমাধানে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন