English / বাংলা
Editorial News 24

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারের ভক্ত হওয়ায় নিজের নামের সঙ্গে ‘ডেভিড’ যুক্ত করেন।

ক্রিকেটার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন


প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

ক্রিকেটার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

জাতীয় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে যাত্রা শুরু করেছিলেন মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ ছেড়ে একসময় জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের কৃষক পরিবারে জন্ম ইমনের। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারের ভক্ত হওয়ায় নিজের নামের সঙ্গে ‘ডেভিড’ যুক্ত করেন। ২০১৭ সালে ক্রিকেটার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন একাডেমিতে যোগ দেন। বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ বোলার হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দেশি-বিদেশি দলের নেট বোলার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের কোচ মাসুম উদ দৌলা বলেন, ইমন একজন সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডার ছিলেন। ২০২০ সালের পর হঠাৎ করেই তিনি ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির পর ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন ইমন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ও পরে বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অপরাধচক্রটির অন্যতম নেতৃত্বে চলে আসেন।পুলিশের দাবি, বিদেশে অবস্থানকারী গডফাদারের নির্দেশে চাঁদাবাজি, হামলা ও অন্যান্য অপরাধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন ইমন। তাদের অপরাধচক্রে তথ্য সংগ্রহ, পরিকল্পনা ও হামলা বাস্তবায়নের জন্য তিন স্তরের কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইমন। এরপর আরও কয়েকটি আলোচিত হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সাতটি হত্যাসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুপস্থিতিতে ডেভিড ইমনই তার বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর বাহিনীর অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার অভিযান চলছে।

মঙ্গলবার যশোর থেকে গ্রেপ্তারের পর ইমনকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একটি হত্যা ও দুটি অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ক্রিকেটার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

জাতীয় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে যাত্রা শুরু করেছিলেন মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ ছেড়ে একসময় জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের কৃষক পরিবারে জন্ম ইমনের। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারের ভক্ত হওয়ায় নিজের নামের সঙ্গে ‘ডেভিড’ যুক্ত করেন। ২০১৭ সালে ক্রিকেটার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন একাডেমিতে যোগ দেন। বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ বোলার হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দেশি-বিদেশি দলের নেট বোলার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের কোচ মাসুম উদ দৌলা বলেন, ইমন একজন সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডার ছিলেন। ২০২০ সালের পর হঠাৎ করেই তিনি ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির পর ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন ইমন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ও পরে বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অপরাধচক্রটির অন্যতম নেতৃত্বে চলে আসেন।পুলিশের দাবি, বিদেশে অবস্থানকারী গডফাদারের নির্দেশে চাঁদাবাজি, হামলা ও অন্যান্য অপরাধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন ইমন। তাদের অপরাধচক্রে তথ্য সংগ্রহ, পরিকল্পনা ও হামলা বাস্তবায়নের জন্য তিন স্তরের কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইমন। এরপর আরও কয়েকটি আলোচিত হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সাতটি হত্যাসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুপস্থিতিতে ডেভিড ইমনই তার বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর বাহিনীর অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার অভিযান চলছে।

মঙ্গলবার যশোর থেকে গ্রেপ্তারের পর ইমনকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একটি হত্যা ও দুটি অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0