নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের ১৪তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। সবাই ধরে নিয়েছিলেন স্পটকিক নেবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু অবাক করে দিয়ে তিনি বল তুলে দেন ব্রুনো গিমারাইসের হাতে। সেই সিদ্ধান্তই পরে হয়ে দাঁড়ায় ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ভিনিসিয়ুস ক্যারিয়ারে ১৯টি পেনাল্টির মধ্যে ১৩টিতে গোল করেছেন। ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর তিনটি পেনাল্টির একটিতে এসেছে গোল। অন্যদিকে গিমারাইস ক্যারিয়ারে মাত্র তিনবার পেনাল্টি নিয়েছিলেন, প্রতিবারই সফল হলেও ব্রাজিলের হয়ে এর আগে কখনো স্পটকিক নেননি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মতো চাপের ম্যাচে সেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়। গিমারাইস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন, আর ২-১ গোলে নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলোর বাধাই পেরোতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই মিসের পর ফিরে এসেছে ৪০ বছর আগের স্মৃতি। গিমারাইসের আগে বিশ্বকাপে (টাইব্রেকার বাদে) ব্রাজিল সর্বশেষ পেনাল্টি মিস করেছিল ১৯৮৬ সালে। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে স্পটকিক নেন কিংবদন্তি জিকো, কিন্তু তিনিও গোল করতে পারেননি। সেই ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।
এরপর বিশ্বকাপে পাওয়া ছয়টি পেনাল্টির প্রতিটিই সফলভাবে কাজে লাগিয়েছিল সেলেসাও। ১৯৯৪ সালে রাইয়ের পর রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনিও এবং নেইমার—কেউই বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে ব্যর্থ হননি।
ইতিহাস আরও একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছিল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (টাইব্রেকার ছাড়া) ব্রাজিল এর আগে তিনবার পেনাল্টি মিস করেছিল। এর মধ্যে দুইবারই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।
১৯৩৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষে ব্রিতোর পেনাল্টি মিসের পর ৩-১ গোলে হারে ব্রাজিল। ১৯৩৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও সে ম্যাচ জিতেছিল তারা। এরপর ১৯৮৬ সালে জিকোর মিস এনে দেয় আরেকটি হতাশার বিদায়।
সেই ইতিহাসের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো ২০২৬। ভিনিসিয়ুসের পরিবর্তে গিমারাইসকে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া, তাঁর ব্যর্থতা এবং শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিদায়—সব মিলিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়ও সেটিই—সিদ্ধান্তটি কি ভুল ছিল?
চার দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের আরেকটি পেনাল্টি মিস, আর তার পরিণতিও একই—অকাল বিদায়।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের ১৪তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। সবাই ধরে নিয়েছিলেন স্পটকিক নেবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু অবাক করে দিয়ে তিনি বল তুলে দেন ব্রুনো গিমারাইসের হাতে। সেই সিদ্ধান্তই পরে হয়ে দাঁড়ায় ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ভিনিসিয়ুস ক্যারিয়ারে ১৯টি পেনাল্টির মধ্যে ১৩টিতে গোল করেছেন। ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর তিনটি পেনাল্টির একটিতে এসেছে গোল। অন্যদিকে গিমারাইস ক্যারিয়ারে মাত্র তিনবার পেনাল্টি নিয়েছিলেন, প্রতিবারই সফল হলেও ব্রাজিলের হয়ে এর আগে কখনো স্পটকিক নেননি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মতো চাপের ম্যাচে সেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়। গিমারাইস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন, আর ২-১ গোলে নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলোর বাধাই পেরোতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই মিসের পর ফিরে এসেছে ৪০ বছর আগের স্মৃতি। গিমারাইসের আগে বিশ্বকাপে (টাইব্রেকার বাদে) ব্রাজিল সর্বশেষ পেনাল্টি মিস করেছিল ১৯৮৬ সালে। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে স্পটকিক নেন কিংবদন্তি জিকো, কিন্তু তিনিও গোল করতে পারেননি। সেই ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।
এরপর বিশ্বকাপে পাওয়া ছয়টি পেনাল্টির প্রতিটিই সফলভাবে কাজে লাগিয়েছিল সেলেসাও। ১৯৯৪ সালে রাইয়ের পর রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনিও এবং নেইমার—কেউই বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে ব্যর্থ হননি।
ইতিহাস আরও একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছিল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (টাইব্রেকার ছাড়া) ব্রাজিল এর আগে তিনবার পেনাল্টি মিস করেছিল। এর মধ্যে দুইবারই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।
১৯৩৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষে ব্রিতোর পেনাল্টি মিসের পর ৩-১ গোলে হারে ব্রাজিল। ১৯৩৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও সে ম্যাচ জিতেছিল তারা। এরপর ১৯৮৬ সালে জিকোর মিস এনে দেয় আরেকটি হতাশার বিদায়।
সেই ইতিহাসের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো ২০২৬। ভিনিসিয়ুসের পরিবর্তে গিমারাইসকে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া, তাঁর ব্যর্থতা এবং শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিদায়—সব মিলিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়ও সেটিই—সিদ্ধান্তটি কি ভুল ছিল?
চার দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের আরেকটি পেনাল্টি মিস, আর তার পরিণতিও একই—অকাল বিদায়।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন