English / বাংলা
Editorial News 24

পুলিশি অভিযানের পর আতঙ্কে গ্রামবাসী

শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডে উত্তপ্ত আদিতমারী



শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডে উত্তপ্ত আদিতমারী

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকায় শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও উত্তেজনার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকার অনেক পুরুষ বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি প্রশাসনের কাজে বাধা দিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে। আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, প্রশাসনের গাড়িতে হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন বিধান চন্দ্র রায় (২২) এবং তার বাবা রনজিৎ কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল সাত বছর বয়সী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাক্ষেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখা গিয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময় তিনি পলাতক থাকায় ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এ সময় অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তারাও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও প্রায় তিন ঘণ্টা তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন।

অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রশাসন। যাওয়ার সময় প্রশাসনের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং কয়েকটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।পুলিশ জানায়, হামলায় পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর প্রশাসনের অন্তত আটটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্ত বিধান চন্দ্র প্রতিবেশী শিশু নন্দিনীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে এবং মরদেহ বস্তাবন্দি করে মাটিতে পুঁতে রাখে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং একাধিক সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। নন্দিনী হত্যা মামলায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায়ও পৃথক মামলা করা হবে।”

জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর সৃষ্ট আতঙ্কে অনেকেই এখনও বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন।আদিতমারী থানার পুলিশ পরিদর্শক তাজরুল ইসলাম সর্দার জানান, ফলিমারী এলাকায় বর্তমানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডে উত্তপ্ত আদিতমারী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকায় শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও উত্তেজনার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকার অনেক পুরুষ বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি প্রশাসনের কাজে বাধা দিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে। আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, প্রশাসনের গাড়িতে হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন বিধান চন্দ্র রায় (২২) এবং তার বাবা রনজিৎ কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল সাত বছর বয়সী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাক্ষেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখা গিয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময় তিনি পলাতক থাকায় ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এ সময় অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তারাও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও প্রায় তিন ঘণ্টা তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন।

অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রশাসন। যাওয়ার সময় প্রশাসনের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং কয়েকটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।পুলিশ জানায়, হামলায় পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর প্রশাসনের অন্তত আটটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্ত বিধান চন্দ্র প্রতিবেশী শিশু নন্দিনীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে এবং মরদেহ বস্তাবন্দি করে মাটিতে পুঁতে রাখে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং একাধিক সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। নন্দিনী হত্যা মামলায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায়ও পৃথক মামলা করা হবে।”

জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর সৃষ্ট আতঙ্কে অনেকেই এখনও বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন।আদিতমারী থানার পুলিশ পরিদর্শক তাজরুল ইসলাম সর্দার জানান, ফলিমারী এলাকায় বর্তমানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0