English / বাংলা
Editorial News 24

অভিযানে জড়িত ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

সোনা চোরাচালানের সন্দেহে ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর



সোনা চোরাচালানের সন্দেহে ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর

চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সোনা চোরাচালান চক্রের সদস্য সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে অভিযানে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সোনা পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। অভিযানে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সোর্স অংশ নেন। এ সময় বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা নাঈম হাসানকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নাঈম নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও পুলিশ তা গুরুত্ব দেয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই তাকে শনাক্ত করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। পরে তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়।

নাঈমের অভিযোগ, তাকে গলা চেপে ধরে গাড়িতে তোলা হয় এবং মারধর করা হয়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের পাশাপাশি অভিযানে থাকা এক সোর্সও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

অন্যদিকে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান দাবি করেছেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে জানানো হয়নি। এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে থানায় নিয়ে এলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অনুমতি ছাড়া অভিযান পরিচালনার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে নাঈমের পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তার বাবা মাহবুব আলম বলেন, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও থানায় নাঈমকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

ঘটনার পর শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার পর এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরও এক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শনিবার নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দেখা করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি ঘটনাটিকে ‘চরম অপেশাদার আচরণ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। তবে তথ্যের উৎস, অভিযানের পদ্ধতি এবং পুলিশের আচরণ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিএমপি।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সোনা চোরাচালানের সন্দেহে ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সোনা চোরাচালান চক্রের সদস্য সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে অভিযানে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সোনা পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। অভিযানে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সোর্স অংশ নেন। এ সময় বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা নাঈম হাসানকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নাঈম নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও পুলিশ তা গুরুত্ব দেয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই তাকে শনাক্ত করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। পরে তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়।

নাঈমের অভিযোগ, তাকে গলা চেপে ধরে গাড়িতে তোলা হয় এবং মারধর করা হয়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের পাশাপাশি অভিযানে থাকা এক সোর্সও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

অন্যদিকে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান দাবি করেছেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে জানানো হয়নি। এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে থানায় নিয়ে এলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অনুমতি ছাড়া অভিযান পরিচালনার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে নাঈমের পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তার বাবা মাহবুব আলম বলেন, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও থানায় নাঈমকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

ঘটনার পর শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার পর এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরও এক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শনিবার নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দেখা করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি ঘটনাটিকে ‘চরম অপেশাদার আচরণ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। তবে তথ্যের উৎস, অভিযানের পদ্ধতি এবং পুলিশের আচরণ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিএমপি।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0