English / বাংলা
Editorial News 24

বুধবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করে সংস্থাটি

ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার পেল বাংলাদেশের ভাসমান বিদ্যালয় উদ্যোগ



ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার পেল বাংলাদেশের ভাসমান বিদ্যালয় উদ্যোগ

চলনবিল অঞ্চলের দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকায় শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার-২০২৫ অর্জন করেছে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা। সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয় পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করে সংস্থাটি। ইউনেস্কো ঢাকার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যুরো অব নন-ফরমাল এডুকেশনের (বিএনএফই) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ।অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষাসেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনী উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রম শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাডাল্ট লিটারেসি এজেন্সি (নালা) এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা তরুণদের জন্য উদ্ভাবনী সাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়া-লেখা শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সুযোগ কাজে লাগানো এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সক্ষমতা দেয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

চলনবিলের জলাবদ্ধ এলাকায় পরিচালিত সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্প স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা উদ্যোগ। বর্ষা মৌসুমে যখন অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, তখন নৌকাভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ তাদের জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে।

স্থানীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতা ব্যবহার করে নির্মিত প্রতিটি নৌকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি মোট ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যান্য নৌকা স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও পরিবহন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় জনগণের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান গড়ে ওঠে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে ইউনেস্কো সাক্ষরতা ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার প্রদান করে আসছে। চীন সরকারের অর্থায়নে প্রদত্ত ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৩ সালে এবং ফ্রেন্ডশিপ ২০২৩ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছিল।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার পেল বাংলাদেশের ভাসমান বিদ্যালয় উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

চলনবিল অঞ্চলের দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকায় শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার-২০২৫ অর্জন করেছে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা। সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয় পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করে সংস্থাটি। ইউনেস্কো ঢাকার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যুরো অব নন-ফরমাল এডুকেশনের (বিএনএফই) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ।অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষাসেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনী উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রম শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাডাল্ট লিটারেসি এজেন্সি (নালা) এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা তরুণদের জন্য উদ্ভাবনী সাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়া-লেখা শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সুযোগ কাজে লাগানো এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সক্ষমতা দেয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

চলনবিলের জলাবদ্ধ এলাকায় পরিচালিত সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্প স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা উদ্যোগ। বর্ষা মৌসুমে যখন অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, তখন নৌকাভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ তাদের জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে।

স্থানীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতা ব্যবহার করে নির্মিত প্রতিটি নৌকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি মোট ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যান্য নৌকা স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও পরিবহন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় জনগণের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান গড়ে ওঠে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে ইউনেস্কো সাক্ষরতা ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার প্রদান করে আসছে। চীন সরকারের অর্থায়নে প্রদত্ত ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৩ সালে এবং ফ্রেন্ডশিপ ২০২৩ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছিল।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0