রাজধানীর বহুল আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রধান আসামি সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পরবর্তীতে প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেননি। ফলে আদালতের কাছে তার অপরাধ স্বীকারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর সোহেল রানাকে পালাতে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালত উভয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।
রায়ের দিন সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার পরিবার সোহেল রানার বাসার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পায়।
একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে পরিবারের সদস্যরা শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না খাতুনকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
রাজধানীর বহুল আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রধান আসামি সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পরবর্তীতে প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেননি। ফলে আদালতের কাছে তার অপরাধ স্বীকারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর সোহেল রানাকে পালাতে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালত উভয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।
রায়ের দিন সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার পরিবার সোহেল রানার বাসার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পায়।
একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে পরিবারের সদস্যরা শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না খাতুনকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন