রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সাক্ষ্যে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি অফিসে যান। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে এসে দেখেন, ভবনের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রী জানান পাশের ফ্ল্যাটে রামিসা আটকে থাকতে পারে। এরপর তিনি ও স্থানীয়রা দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমের সামনে রক্ত দেখতে পান। পরে একটি বালতির ভেতর রামিসার মাথা দেখতে পেয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
অপরদিকে, দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে বক্তব্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় রান্না করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসা আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার কথা বললেও ছোট মেয়ে রামিসা তার সঙ্গে যায়নি।পারভীন আক্তার জানান, কিছুক্ষণ পর পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি শিশুর চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন। তবে সেটি অন্য কোনো শিশুর বলে ভেবেছিলেন। পরে বড় মেয়ে একা ফিরে এলে রামিসার খোঁজ শুরু করেন। তিনি আদালতে বলেন, “তিনতলার ফ্ল্যাটে বারবার ধাক্কা দিয়েছি, ডাকাডাকি করেছি। নিচে তাকিয়ে আমার মেয়ের একটি জুতা দেখতে পাই। পরে প্রতিবেশীদের ডাকি। সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেও দরজা খোলাতে পারিনি।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি কতবার কইছি, বইন দরজাটা খুল, তোর কিছু হবে না। কিন্তু সে দরজা খুলে নাই।”
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বাথরুমের সামনে রক্ত দেখতে পান। এরপর একটি কক্ষে রামিসার মরদেহ এবং আলাদা স্থানে তার মাথা দেখতে পান বলে আদালতে জানান তিনি।
এর আগে সোমবার আদালত মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।গত ২৪ মে আদালত মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। তদন্ত শেষে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সাক্ষ্যে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি অফিসে যান। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে এসে দেখেন, ভবনের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রী জানান পাশের ফ্ল্যাটে রামিসা আটকে থাকতে পারে। এরপর তিনি ও স্থানীয়রা দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমের সামনে রক্ত দেখতে পান। পরে একটি বালতির ভেতর রামিসার মাথা দেখতে পেয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
অপরদিকে, দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে বক্তব্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় রান্না করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসা আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার কথা বললেও ছোট মেয়ে রামিসা তার সঙ্গে যায়নি।পারভীন আক্তার জানান, কিছুক্ষণ পর পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি শিশুর চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন। তবে সেটি অন্য কোনো শিশুর বলে ভেবেছিলেন। পরে বড় মেয়ে একা ফিরে এলে রামিসার খোঁজ শুরু করেন। তিনি আদালতে বলেন, “তিনতলার ফ্ল্যাটে বারবার ধাক্কা দিয়েছি, ডাকাডাকি করেছি। নিচে তাকিয়ে আমার মেয়ের একটি জুতা দেখতে পাই। পরে প্রতিবেশীদের ডাকি। সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেও দরজা খোলাতে পারিনি।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি কতবার কইছি, বইন দরজাটা খুল, তোর কিছু হবে না। কিন্তু সে দরজা খুলে নাই।”
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বাথরুমের সামনে রক্ত দেখতে পান। এরপর একটি কক্ষে রামিসার মরদেহ এবং আলাদা স্থানে তার মাথা দেখতে পান বলে আদালতে জানান তিনি।
এর আগে সোমবার আদালত মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।গত ২৪ মে আদালত মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। তদন্ত শেষে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন