English / বাংলা
Editorial News 24

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সুইটির পরিবারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা জহুরা বেগম। অন্যদিকে মেয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য খবর না পেয়ে অসহায় অপেক্ষায় দিন কাটছে বাবা ফজলু মিয়ার।

সৌদিতে শিরচ্ছেদের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলে মেয়ের সন্ধানে উদ্বিগ্ন পরিবার


প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

 সৌদিতে শিরচ্ছেদের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলে মেয়ের সন্ধানে উদ্বিগ্ন পরিবার

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এক পরিবারের। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে থাকা নারীকে নিজেদের মেয়ে সুয়েতি আক্তার ওরফে সুইটি বলে দাবি করছেন তাঁর স্বজনেরা। তবে ওই নারী সুইটি কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মেয়ের জীবিত থাকার আশায় অপেক্ষা করছেন তাঁর মা-বাবা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুইটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজলু মিয়ার ছোট মেয়ে। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। এ জন্য নতু মিয়া নামের এক দালালকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন স্বজনেরা।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুইটি। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে আটকের বিষয়টি পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সুইটি নিজেই তাঁর গ্রেপ্তারের কথা জানান।সুইটি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, মারামারির একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবে থাকা তাঁর এক বান্ধবী পরিবারকে বলেছিলেন, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সুইটির পরিবারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা জহুরা বেগম। অন্যদিকে মেয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য খবর না পেয়ে অসহায় অপেক্ষায় দিন কাটছে বাবা ফজলু মিয়ার।ফজলু মিয়া বলেন, “গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে আমাদের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। তখন সে জানিয়েছিল, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। এখন মেয়ের নির্ভরযোগ্য খবরের অপেক্ষায় আছি।”

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা সুইটির প্রকৃত অবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জীবিত থাকলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। আর মৃত্যুর খবর সত্য হলে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিরচ্ছেদের ঘটনায় সুইটি জড়িত কি না, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি তাঁর নজরে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে খোঁজ নেওয়া হবে।

সুইটির পরিবার এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও খবরের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের উদ্বেগ কাটছে না।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


সৌদিতে শিরচ্ছেদের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলে মেয়ের সন্ধানে উদ্বিগ্ন পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এক পরিবারের। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে থাকা নারীকে নিজেদের মেয়ে সুয়েতি আক্তার ওরফে সুইটি বলে দাবি করছেন তাঁর স্বজনেরা। তবে ওই নারী সুইটি কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মেয়ের জীবিত থাকার আশায় অপেক্ষা করছেন তাঁর মা-বাবা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুইটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজলু মিয়ার ছোট মেয়ে। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। এ জন্য নতু মিয়া নামের এক দালালকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন স্বজনেরা।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুইটি। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে আটকের বিষয়টি পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সুইটি নিজেই তাঁর গ্রেপ্তারের কথা জানান।সুইটি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, মারামারির একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবে থাকা তাঁর এক বান্ধবী পরিবারকে বলেছিলেন, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সুইটির পরিবারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা জহুরা বেগম। অন্যদিকে মেয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য খবর না পেয়ে অসহায় অপেক্ষায় দিন কাটছে বাবা ফজলু মিয়ার।ফজলু মিয়া বলেন, “গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে আমাদের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। তখন সে জানিয়েছিল, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। এখন মেয়ের নির্ভরযোগ্য খবরের অপেক্ষায় আছি।”

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা সুইটির প্রকৃত অবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জীবিত থাকলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। আর মৃত্যুর খবর সত্য হলে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিরচ্ছেদের ঘটনায় সুইটি জড়িত কি না, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি তাঁর নজরে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে খোঁজ নেওয়া হবে।

সুইটির পরিবার এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও খবরের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের উদ্বেগ কাটছে না।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0