পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধ আটকের তিন দিন পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর প্রতিবাদে এবং আটক বৃদ্ধকে ফেরত পাওয়ার দাবিতে সীমান্ত এলাকা থেকে দীপঙ্কর গোপ নামে এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে এনে আটকে রেখেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। বর্তমানে সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়সী তমিজ উদ্দিন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গরু চরাতে যান। একপর্যায়ে তাঁর একটি গরু দলছুট হয়ে ভারতের ভূখণ্ডে চলে গেলে সেটি ফিরিয়ে আনতে যান তিনি। বয়সের ভারে ন্যূব্জ ও কানে কম শোনা তমিজ উদ্দিন ভুলবশত সীমান্ত পার হলে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অমরখানা বিওপিতে বিষয়টি জানানো হলেও গত তিন দিনেও তাঁর কোনো সন্ধান বা মুক্তি মেলেনি।
পরবর্তীকালে শনিবার সকালে বিরাজোত সীমান্তসংলগ্ন একটি আখখেতে এক ভারতীয় নাগরিককে দেখতে পেয়ে আটক করেন স্থানীয় কৃষকেরা। আটক ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপ ভারতের জলপাইগুড়ির চাউলহাটি-তসরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় চা-বাগানের শ্রমিক। গ্রামবাসীর সাফ কথা, তমিজ উদ্দিনকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই ভারতীয় নাগরিককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে না। আটক দীপঙ্কর গোপ বর্তমানে স্থানীয়দের হেফাজতে নিরাপদেই আছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বিজিবি ৫৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের (নীলফামারী ব্যাটালিয়ন) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিজিবিকে প্রথমে স্থানীয়রা জানায়নি। তবে এক ভারতীয় নাগরিককে আটকে রাখার পর বিএসএফ বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করে। বিএসএফ দাবি করেছে, কাঁটাতার কাটার অপরাধে তমিজ উদ্দিনকে আটক করে স্থানীয় ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সীমান্ত গ্রামে বিজিবি, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন। দীপঙ্কর গোপকে স্থানীয়রা নিরাপদে রেখেছেন এবং তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য আলোচনা চলছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শনিবার বিকেলে মাগুরমারী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। তমিজ উদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, বৃদ্ধ ও অসুস্থ তমিজ উদ্দিনকে না ছাড়া পর্যন্ত তারা আটক ভারতীয় নাগরিককে মুক্তি দেবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বিজিবি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধ আটকের তিন দিন পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর প্রতিবাদে এবং আটক বৃদ্ধকে ফেরত পাওয়ার দাবিতে সীমান্ত এলাকা থেকে দীপঙ্কর গোপ নামে এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে এনে আটকে রেখেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। বর্তমানে সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়সী তমিজ উদ্দিন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গরু চরাতে যান। একপর্যায়ে তাঁর একটি গরু দলছুট হয়ে ভারতের ভূখণ্ডে চলে গেলে সেটি ফিরিয়ে আনতে যান তিনি। বয়সের ভারে ন্যূব্জ ও কানে কম শোনা তমিজ উদ্দিন ভুলবশত সীমান্ত পার হলে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অমরখানা বিওপিতে বিষয়টি জানানো হলেও গত তিন দিনেও তাঁর কোনো সন্ধান বা মুক্তি মেলেনি।
পরবর্তীকালে শনিবার সকালে বিরাজোত সীমান্তসংলগ্ন একটি আখখেতে এক ভারতীয় নাগরিককে দেখতে পেয়ে আটক করেন স্থানীয় কৃষকেরা। আটক ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপ ভারতের জলপাইগুড়ির চাউলহাটি-তসরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় চা-বাগানের শ্রমিক। গ্রামবাসীর সাফ কথা, তমিজ উদ্দিনকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই ভারতীয় নাগরিককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে না। আটক দীপঙ্কর গোপ বর্তমানে স্থানীয়দের হেফাজতে নিরাপদেই আছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বিজিবি ৫৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের (নীলফামারী ব্যাটালিয়ন) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিজিবিকে প্রথমে স্থানীয়রা জানায়নি। তবে এক ভারতীয় নাগরিককে আটকে রাখার পর বিএসএফ বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করে। বিএসএফ দাবি করেছে, কাঁটাতার কাটার অপরাধে তমিজ উদ্দিনকে আটক করে স্থানীয় ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সীমান্ত গ্রামে বিজিবি, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন। দীপঙ্কর গোপকে স্থানীয়রা নিরাপদে রেখেছেন এবং তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য আলোচনা চলছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শনিবার বিকেলে মাগুরমারী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। তমিজ উদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, বৃদ্ধ ও অসুস্থ তমিজ উদ্দিনকে না ছাড়া পর্যন্ত তারা আটক ভারতীয় নাগরিককে মুক্তি দেবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বিজিবি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন