কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদের মোহনা থেকে ট্রলারসহ তিন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার নাইক্ষ্যংদিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, তিন জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।ঘটনায় অপহৃত দুই জেলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা লেডা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০) এবং একই এলাকার মমতাজ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (২৭)। অপহৃত অপর জেলের নাম ও পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনরা তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব সীমান্তবর্তী নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পড়ছে। এর ফলে মাছ ধরতে গিয়ে প্রায়ই বাংলাদেশি জেলেরা মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক বা অপহৃত হচ্ছেন। এতে করে সীমান্ত ঘেঁষা জেলে পরিবারের মধ্যে নিত্যদিনের জীবিকা নির্বাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া নৌঘাট কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি জানান, শনিবার সকালে তিন জেলে নাফ নদে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে মিয়ানমারের সীমানা থেকে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে তাদের আটক করে ট্রলারসহ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এর আগেও একই পয়েন্ট থেকে ২০ থেকে ২৫ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে নাফ নদ ও সাগরে মাছ শিকার করা জেলেদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এদিকে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, জালিয়াপাড়া এলাকার তিন জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। ঘটনাটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।