English / বাংলা
Editorial News 24

৩৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে বিশ্বকাপের নায়ক শাপুর জাদরান


প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

৩৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে বিশ্বকাপের নায়ক শাপুর জাদরান

আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম পথিকৃৎ ও সাবেক বাঁহাতি ফাস্ট বোলার Shapoor Zadran আর নেই। দীর্ঘদিন বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (HLH)-এ ভোগার পর মঙ্গলবার ৩৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আফগানিস্তানের ক্রিকেটাঙ্গনে।

শাপুরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই ও আফগানিস্তান জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার Dawlat Zadran। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু ও ভাই শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে আমি ভেঙে পড়েছি। এই ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন শাপুর। শারীরিক অবস্থার সাময়িক উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেন এই সাবেক পেসার।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের মাধ্যমে আফগানিস্তানের জাতীয় দলের শুরুর যুগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শাপুর। ২০২০ সালে দেশের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি। ক্যারিয়ারে তিনি মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে ওয়ানডেতে ৪৩টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট শিকার করেন।

তিনি আফগানিস্তানের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছেন। পাশাপাশি ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আফগানিস্তান দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।

শাপুর জাদরানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে। নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে এক উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান—যা ছিল বিশ্বকাপে দেশটির প্রথম জয়। মূলত বোলার হলেও সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে জয়সূচক রানটি করেছিলেন শাপুর। আফগান ক্রিকেট ইতিহাসে সেই মুহূর্ত আজও বিশেষভাবে স্মরণীয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কয়েক বছর দূরে থাকার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। বিদায়ী বার্তায় শাপুর লিখেছিলেন, “আজ সেই দিন, যেটির মুখোমুখি আমি কখনো হতে চাইনি। কিন্তু প্রতিটি খেলোয়াড়ের জীবনেই একসময় এই দিন আসে।”

আরও লিখেছিলেন, “২২ বছরের সেবা, ত্যাগ এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার পর আমি বিদায় নিচ্ছি। ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি খেলা ছিল না; এটি ছিল আমার আবেগ, পরিচয় এবং জীবনের উদ্দেশ্য।”

অবসরের সময় Afghanistan Cricket Board এক বিবৃতিতে শাপুর জাদরানকে “আফগানিস্তানে ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব” হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল।

বাঁহাতি পেস, লম্বা গড়ন, আগ্রাসী বোলিং এবং উইকেট উদযাপনের স্বতন্ত্র ভঙ্গির কারণে শাপুর জাদরান দ্রুতই সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রজন্মটি ইতিহাস গড়েছিল, তিনি ছিলেন সেই দলের অন্যতম মুখ। তাঁর মৃত্যুতে আফগান ক্রিকেট হারাল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, তবে দেশের ক্রিকেটে তাঁর অবদান ও বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Image

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


৩৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে বিশ্বকাপের নায়ক শাপুর জাদরান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম পথিকৃৎ ও সাবেক বাঁহাতি ফাস্ট বোলার Shapoor Zadran আর নেই। দীর্ঘদিন বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (HLH)-এ ভোগার পর মঙ্গলবার ৩৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আফগানিস্তানের ক্রিকেটাঙ্গনে।

শাপুরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই ও আফগানিস্তান জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার Dawlat Zadran। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু ও ভাই শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে আমি ভেঙে পড়েছি। এই ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন শাপুর। শারীরিক অবস্থার সাময়িক উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেন এই সাবেক পেসার।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের মাধ্যমে আফগানিস্তানের জাতীয় দলের শুরুর যুগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শাপুর। ২০২০ সালে দেশের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি। ক্যারিয়ারে তিনি মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে ওয়ানডেতে ৪৩টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট শিকার করেন।

তিনি আফগানিস্তানের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছেন। পাশাপাশি ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আফগানিস্তান দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।

শাপুর জাদরানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে। নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে এক উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান—যা ছিল বিশ্বকাপে দেশটির প্রথম জয়। মূলত বোলার হলেও সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে জয়সূচক রানটি করেছিলেন শাপুর। আফগান ক্রিকেট ইতিহাসে সেই মুহূর্ত আজও বিশেষভাবে স্মরণীয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কয়েক বছর দূরে থাকার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। বিদায়ী বার্তায় শাপুর লিখেছিলেন, “আজ সেই দিন, যেটির মুখোমুখি আমি কখনো হতে চাইনি। কিন্তু প্রতিটি খেলোয়াড়ের জীবনেই একসময় এই দিন আসে।”

আরও লিখেছিলেন, “২২ বছরের সেবা, ত্যাগ এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার পর আমি বিদায় নিচ্ছি। ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি খেলা ছিল না; এটি ছিল আমার আবেগ, পরিচয় এবং জীবনের উদ্দেশ্য।”

অবসরের সময় Afghanistan Cricket Board এক বিবৃতিতে শাপুর জাদরানকে “আফগানিস্তানে ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব” হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল।

বাঁহাতি পেস, লম্বা গড়ন, আগ্রাসী বোলিং এবং উইকেট উদযাপনের স্বতন্ত্র ভঙ্গির কারণে শাপুর জাদরান দ্রুতই সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রজন্মটি ইতিহাস গড়েছিল, তিনি ছিলেন সেই দলের অন্যতম মুখ। তাঁর মৃত্যুতে আফগান ক্রিকেট হারাল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, তবে দেশের ক্রিকেটে তাঁর অবদান ও বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0