জ্বালানি সংকটে নাশকতার সন্দেহ, আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে গোয়েন্দা গাফিলতির প্রশ্ন রিজভীর
দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পেছনে কোনো নাশকতা বা পরিকল্পিত ঘটনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য মিছিলের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকটের জন্য মাত্র ছয় মাসের সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। যুদ্ধের কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পারস্য উপসাগরে মাইন পাতা কিংবা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহেও পড়ছে।তার ভাষ্য, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ও এলএনজি আমদানি করতে হয়। যুদ্ধের কারণে এসব আমদানিতেও বাধা তৈরি হয়েছে। তাই বর্তমান সংকটের জন্য তারেক রহমান, সরকার বা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়ী নয় বলে দাবি করেন তিনি।তবে সংকটের মধ্যেই একের পর এক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।রিজভী প্রশ্ন তোলেন, একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে কোনো নাশকতা বা অন্য কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না। জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার জন্য কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এসব জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বাধা বা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।এরপর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটি কীভাবে হঠাৎ প্রকাশ্যে মিছিল করার জন্য এত মানুষ জড়ো করল, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকে তা জানতে পেরেছিল কি না, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়া প্রয়োজন। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আগের সেই ‘জিঘাংসু’ চেহারা নিয়ে রাজনীতিতে ফিরতে চায়, তাহলে গণতন্ত্রকামী মানুষের শঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে।আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সহিংসতার সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, দলটির রাজনৈতিক ‘ডিএনএর মধ্যেই’ সহিংসতা রয়েছে।এর আগে সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতে অংশ নেন রুহুল কবির রিজভী। সেখানে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের নারীরা নির্বিঘ্নে কথা বলতে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন, যা সরকারের অন্যতম বড় অর্জন।