English / বাংলা
Editorial News 24

নির্বাচনে বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কাওয়াস লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস


প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

 নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আবের কাওয়াস। তিনিই প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসেবে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।

নির্বাচনে বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কাওয়াস লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’

আবের কাওয়াস একজন পরিচিত কমিউনিটি সংগঠক এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য। রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিকদের অধিকার, অভিবাসী জনগোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন তিনি। গত জুনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন কাওয়াস।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাঁর। তাঁর বাবা-মা ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যাঁরা ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কাওয়াসের শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মুসলিম পরিবারগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি এবং বহিষ্কারের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল।হাই স্কুলে পড়ার সময় তাঁর বাবাকে জর্ডানে বহিষ্কার করা হয়। এর ফলে পরিবারের আর্থিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটে বলে জানিয়েছেন কাওয়াস।

২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বে অর্থায়ন বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন একদল অধিকারকর্মী। সেই উদ্যোগে যুক্ত হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ইসরায়েলি বসতি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন করতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি বিলের পক্ষে প্রচার চালান তাঁরা। সিনেটর জাবারি ব্রিসপোর্ট বিলটি উত্থাপন করেন এবং তৎকালীন অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান মামদানি এর খসড়া তৈরিতে সহায়তা করেন। তবে আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিলটি পাস হয়নি।নির্বাচনী প্রচারে কাওয়াসের মূল বার্তা ছিল ‘মর্যাদায় অর্থায়ন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। নির্বাচিত হলে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, উন্নত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আবাসন ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, যুদ্ধের পেছনে অর্থায়নের বিরোধিতা এবং অভিবাসনবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সহযোগিতা বন্ধে ‘নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন কাওয়াস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিবাদে চলতি বছর আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি নজরদারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইটের সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের চুক্তির সমালোচনা করেন কাওয়াস। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তির মুখে গত সপ্তাহে ওই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ বিভাগ।নির্বাচনী প্রচারে কাওয়াসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট নেতা ও সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয়ের পর এবার আবের কাওয়াসের জয় অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) প্রভাব ও জনপ্রিয়তা বাড়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আবের কাওয়াস। তিনিই প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসেবে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।

নির্বাচনে বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কাওয়াস লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’

আবের কাওয়াস একজন পরিচিত কমিউনিটি সংগঠক এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য। রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিকদের অধিকার, অভিবাসী জনগোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন তিনি। গত জুনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন কাওয়াস।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাঁর। তাঁর বাবা-মা ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যাঁরা ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কাওয়াসের শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মুসলিম পরিবারগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি এবং বহিষ্কারের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল।হাই স্কুলে পড়ার সময় তাঁর বাবাকে জর্ডানে বহিষ্কার করা হয়। এর ফলে পরিবারের আর্থিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটে বলে জানিয়েছেন কাওয়াস।

২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বে অর্থায়ন বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন একদল অধিকারকর্মী। সেই উদ্যোগে যুক্ত হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ইসরায়েলি বসতি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন করতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি বিলের পক্ষে প্রচার চালান তাঁরা। সিনেটর জাবারি ব্রিসপোর্ট বিলটি উত্থাপন করেন এবং তৎকালীন অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান মামদানি এর খসড়া তৈরিতে সহায়তা করেন। তবে আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিলটি পাস হয়নি।নির্বাচনী প্রচারে কাওয়াসের মূল বার্তা ছিল ‘মর্যাদায় অর্থায়ন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। নির্বাচিত হলে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, উন্নত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আবাসন ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, যুদ্ধের পেছনে অর্থায়নের বিরোধিতা এবং অভিবাসনবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সহযোগিতা বন্ধে ‘নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন কাওয়াস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিবাদে চলতি বছর আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি নজরদারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইটের সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের চুক্তির সমালোচনা করেন কাওয়াস। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তির মুখে গত সপ্তাহে ওই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ বিভাগ।নির্বাচনী প্রচারে কাওয়াসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট নেতা ও সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয়ের পর এবার আবের কাওয়াসের জয় অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) প্রভাব ও জনপ্রিয়তা বাড়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0