যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর মতে, এই যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছিলেন অনেক ভোটার, যাঁদের একটি বড় অংশ ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছিলেন।বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে এ কথা বলেছেন।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজ দলের বড় বিপর্যয়ের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মুখ খুললেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট।এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন জেডি ভ্যান্স। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইরান যুদ্ধের মতো অজনপ্রিয় ইস্যু থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা করার চেষ্টা করছেন তিনি।
রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জনমত জরিপকারীদের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না আসা নয়। বরং আগের নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জোটকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো, ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।’ভ্যান্সের মতে, ভোটারদের অসন্তুষ্টির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান যুদ্ধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক। বিশেষ করে ইসরায়েলকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।
যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে পরাজয় এবং আগামী ছয় বছর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি নিয়েও মন্তব্য করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কেউ চাইলে এই যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিতে পারেন। তবে যুদ্ধের কারণে দলের বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে—এই বাস্তবতা সবার স্বীকার করা উচিত।ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ সবার জানা। এখন ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যেকোনো আলোচনা শুরু হওয়া উচিত এই সত্য স্বীকার করার মধ্য দিয়ে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন ট্রাম্প। শুরু থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছিলেন ভ্যান্স। বিদেশে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিও ভোটারদের অসন্তুষ্টির বড় কারণ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
নির্বাচন-পরবর্তী এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁরা আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করেছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর মতে, এই যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছিলেন অনেক ভোটার, যাঁদের একটি বড় অংশ ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছিলেন।বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে এ কথা বলেছেন।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজ দলের বড় বিপর্যয়ের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মুখ খুললেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট।এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন জেডি ভ্যান্স। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইরান যুদ্ধের মতো অজনপ্রিয় ইস্যু থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা করার চেষ্টা করছেন তিনি।
রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জনমত জরিপকারীদের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না আসা নয়। বরং আগের নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জোটকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো, ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।’ভ্যান্সের মতে, ভোটারদের অসন্তুষ্টির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান যুদ্ধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক। বিশেষ করে ইসরায়েলকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।
যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে পরাজয় এবং আগামী ছয় বছর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি নিয়েও মন্তব্য করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কেউ চাইলে এই যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিতে পারেন। তবে যুদ্ধের কারণে দলের বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে—এই বাস্তবতা সবার স্বীকার করা উচিত।ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ সবার জানা। এখন ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যেকোনো আলোচনা শুরু হওয়া উচিত এই সত্য স্বীকার করার মধ্য দিয়ে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন ট্রাম্প। শুরু থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছিলেন ভ্যান্স। বিদেশে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিও ভোটারদের অসন্তুষ্টির বড় কারণ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
নির্বাচন-পরবর্তী এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁরা আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করেছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন