English / বাংলা
Editorial News 24

‘বদর’ সমঝোতার আওতায় চার দেশের সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হবে প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়ন। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যৌথ প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ‘বদর’ চুক্তিতে সই করল চার মুসলিমপ্রধান দেশ


প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ‘বদর’ চুক্তিতে সই করল চার মুসলিমপ্রধান দেশ

প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে নতুন একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া। বুধবার কাতারে চার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘বদর মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় চার দেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষাশিল্পের বিকাশে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও শিল্পভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের বিষয়টিও সমঝোতায় গুরুত্ব পেয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো এবং নিজ নিজ সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

কাতারে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জওহারি উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন খাজা আসিফ। এ সময় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক সচিবালয়ের প্রধান হালুক গোরগুনও উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সমাধান উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের বিকাশে এই সমঝোতা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘বদর’ সমঝোতার আওতায় চার দেশের সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হবে প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়ন। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যৌথ প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে চুক্তির অধীনে ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে কিংবা যৌথ সামরিক বাহিনী গঠন বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ চার দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

এদিকে, পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটেরও সদস্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জোটের মূল লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা। জোটটির নীতিতে সদস্যদেশগুলোর কোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।এর আগে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল কাতার। দেশটি তখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে নতুন ‘বদর’ সমঝোতার কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা চুক্তিটি ওই জোটের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সমঝোতাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে চার দেশের প্রতিরক্ষাশিল্প, প্রযুক্তি বিনিময় ও সামরিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত প্রভাব বুঝতে এর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্প সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র: ডন নিউজ, রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সি


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ‘বদর’ চুক্তিতে সই করল চার মুসলিমপ্রধান দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে নতুন একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া। বুধবার কাতারে চার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘বদর মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় চার দেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষাশিল্পের বিকাশে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও শিল্পভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের বিষয়টিও সমঝোতায় গুরুত্ব পেয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো এবং নিজ নিজ সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

কাতারে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জওহারি উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন খাজা আসিফ। এ সময় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক সচিবালয়ের প্রধান হালুক গোরগুনও উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সমাধান উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের বিকাশে এই সমঝোতা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘বদর’ সমঝোতার আওতায় চার দেশের সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হবে প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়ন। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যৌথ প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে চুক্তির অধীনে ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে কিংবা যৌথ সামরিক বাহিনী গঠন বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ চার দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

এদিকে, পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটেরও সদস্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জোটের মূল লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা। জোটটির নীতিতে সদস্যদেশগুলোর কোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।এর আগে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল কাতার। দেশটি তখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে নতুন ‘বদর’ সমঝোতার কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা চুক্তিটি ওই জোটের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সমঝোতাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে চার দেশের প্রতিরক্ষাশিল্প, প্রযুক্তি বিনিময় ও সামরিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত প্রভাব বুঝতে এর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্প সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র: ডন নিউজ, রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সি



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0