English / বাংলা
Editorial News 24

বুধবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছিল। মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

ডিবি হারুনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট


প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

 ডিবি হারুনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং তার ভাই এ বি এম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে করা মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছিল। মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

দুদকের তদন্তে হারুন অর রশীদের নামে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং তার ভাই শাহারিয়ারের নামে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হারুনের স্থাবর সম্পদের মূল্য ১২ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজার ৯১২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৯ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ৬৯৩ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকা।

আয়কর নথি পর্যালোচনায় হারুনের বৈধ আয় পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে তার নিট সঞ্চয়ের পরিমাণ ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা। এই হিসাবে তার নামে প্রায় ২০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ শনাক্ত করা হয়েছে।তদন্তে হারুনের নামে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশিয়ান সিটিতে পাঁচ কাঠার প্লট, প্রায় ৮২ একর জমি, বনানীতে ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ জমি ও ভবন, উত্তরা সেক্টর-৩-এ আটতলা বাড়ি এবং কক্সবাজার ও টেকনাফে জমির তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, শাহারিয়ারের স্থাবর সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৭ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৮ টাকা। তার মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকা।

দুদকের হিসাবে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত শাহারিয়ারের মোট আয় ছিল ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা। ব্যয় বাদে তার সঞ্চয়ের সক্ষমতা ছিল ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা। এ হিসাবে তার নামে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে।

দুদকের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হারুন অর রশীদ এসব সম্পদ অর্জন করেন। পাশাপাশি সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে তার ভাই শাহারিয়ার সহযোগিতা করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২), দণ্ডবিধির ১০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ডিবি হারুনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং তার ভাই এ বি এম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে করা মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছিল। মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

দুদকের তদন্তে হারুন অর রশীদের নামে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং তার ভাই শাহারিয়ারের নামে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হারুনের স্থাবর সম্পদের মূল্য ১২ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজার ৯১২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৯ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ৬৯৩ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকা।

আয়কর নথি পর্যালোচনায় হারুনের বৈধ আয় পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে তার নিট সঞ্চয়ের পরিমাণ ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা। এই হিসাবে তার নামে প্রায় ২০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ শনাক্ত করা হয়েছে।তদন্তে হারুনের নামে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশিয়ান সিটিতে পাঁচ কাঠার প্লট, প্রায় ৮২ একর জমি, বনানীতে ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ জমি ও ভবন, উত্তরা সেক্টর-৩-এ আটতলা বাড়ি এবং কক্সবাজার ও টেকনাফে জমির তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, শাহারিয়ারের স্থাবর সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৭ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৮ টাকা। তার মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকা।

দুদকের হিসাবে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত শাহারিয়ারের মোট আয় ছিল ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা। ব্যয় বাদে তার সঞ্চয়ের সক্ষমতা ছিল ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা। এ হিসাবে তার নামে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে।

দুদকের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হারুন অর রশীদ এসব সম্পদ অর্জন করেন। পাশাপাশি সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে তার ভাই শাহারিয়ার সহযোগিতা করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২), দণ্ডবিধির ১০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0