English / বাংলা
Editorial News 24

নথিতে দেখা যায়, ‘নারায়ণগঞ্জ-ব-১১-০০৮৪’ নম্বরের একটি কোরিয়ান একতলা বাস ২০১০-১১ সালে তৈরি করা হয়। ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর বাসটির ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়েছিল। আমদানি চুক্তি অনুযায়ী বাসটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ১৫ বছর। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাসটি নতুন রঙ ও সাজসজ্জায় পিংক বাস সার্ভিসে যুক্ত করা হয়েছে।

নারীদের পিংক বাসে পুরোনো গাড়ি, শুরুতেই লোকসানের চাপ


প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

নারীদের পিংক বাসে পুরোনো গাড়ি, শুরুতেই লোকসানের চাপ

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গত ১৮ আগস্ট চালু হয় ‘পিংক বাস সার্ভিস’। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই নতুন এই পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে সার্ভিসে ব্যবহৃত কয়েকটি বাসের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) নথি অনুযায়ী, পিংক বাস সার্ভিসে থাকা ১৪টি বাসের মধ্যে ছয়টির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব বাসের কিছু ১২ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ পার করেছে। বাকি আটটি বাসও তুলনামূলক পুরোনো এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেগুলোর নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার কথা।

নথিতে দেখা যায়, ‘নারায়ণগঞ্জ-ব-১১-০০৮৪’ নম্বরের একটি কোরিয়ান একতলা বাস ২০১০-১১ সালে তৈরি করা হয়। ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর বাসটির ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়েছিল। আমদানি চুক্তি অনুযায়ী বাসটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ১৫ বছর। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাসটি নতুন রঙ ও সাজসজ্জায় পিংক বাস সার্ভিসে যুক্ত করা হয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য চালু করা কোনো পরিবহন ব্যবস্থায় গাড়ির বয়স ও কারিগরি সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শুধু ফিটনেস সনদ থাকলেই একটি বাস দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও কার্যকর—এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে পিংক বাস সার্ভিসের আর্থিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ২৭ ও ৩০ আগস্ট ১০টি ডিপো থেকে ১৪টি বাস মিলে মোট ৩০টি ট্রিপ পরিচালনা করে। এ সময়ে ১ হাজার ৭৯২টি টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয় ২৭ হাজার ৪২ টাকা।অন্যদিকে জ্বালানি, টোল, কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে ওই দুই দিনে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৯ টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে দুই দিনে লোকসান হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১০৭ টাকা। দৈনিক গড় লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬১ হাজার টাকা।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া বাস ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, দেশের অনেক পুরোনো বাসই নির্ধারিত আয়ুষ্কালের বাইরে চলছে। ২০১৮-১৯ সালের পর বিআরটিসির বহরে নতুন বাস যুক্ত না হওয়ায় বিদ্যমান বাস দিয়েই প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।তিনি জানান, প্রয়োজন বিবেচনা করেই পিংক বাসগুলো চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত হলে পুরোনো বাসগুলো পরিবর্তন করা হবে।

লোকসানের বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, সার্ভিসটিকে লাভজনক করার জন্য চেষ্টা চলছে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য না এলে সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা চাওয়া হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীদের জন্য চালু করা এই পরিবহন ব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে শুধু পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন করলেই হবে না; যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রুট ও বাসের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে বেসরকারি পরিবহনকেও পরিকল্পিতভাবে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশে নারীদের জন্য পৃথক গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ নতুন নয়। অতীতেও বিআরটিসি বিভিন্ন সময়ে নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস ও রুট চালু করেছিল। তবে এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।ফলে নতুন করে চালু হওয়া পিংক বাস সার্ভিসকে টেকসই করতে শুরুতেই পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, যাত্রী চাহিদা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে নারীদের জন্য নেওয়া এই উদ্যোগও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নারীদের পিংক বাসে পুরোনো গাড়ি, শুরুতেই লোকসানের চাপ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গত ১৮ আগস্ট চালু হয় ‘পিংক বাস সার্ভিস’। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই নতুন এই পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে সার্ভিসে ব্যবহৃত কয়েকটি বাসের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) নথি অনুযায়ী, পিংক বাস সার্ভিসে থাকা ১৪টি বাসের মধ্যে ছয়টির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব বাসের কিছু ১২ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ পার করেছে। বাকি আটটি বাসও তুলনামূলক পুরোনো এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেগুলোর নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার কথা।

নথিতে দেখা যায়, ‘নারায়ণগঞ্জ-ব-১১-০০৮৪’ নম্বরের একটি কোরিয়ান একতলা বাস ২০১০-১১ সালে তৈরি করা হয়। ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর বাসটির ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়েছিল। আমদানি চুক্তি অনুযায়ী বাসটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ১৫ বছর। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাসটি নতুন রঙ ও সাজসজ্জায় পিংক বাস সার্ভিসে যুক্ত করা হয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য চালু করা কোনো পরিবহন ব্যবস্থায় গাড়ির বয়স ও কারিগরি সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শুধু ফিটনেস সনদ থাকলেই একটি বাস দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও কার্যকর—এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে পিংক বাস সার্ভিসের আর্থিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ২৭ ও ৩০ আগস্ট ১০টি ডিপো থেকে ১৪টি বাস মিলে মোট ৩০টি ট্রিপ পরিচালনা করে। এ সময়ে ১ হাজার ৭৯২টি টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয় ২৭ হাজার ৪২ টাকা।অন্যদিকে জ্বালানি, টোল, কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে ওই দুই দিনে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৯ টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে দুই দিনে লোকসান হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১০৭ টাকা। দৈনিক গড় লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬১ হাজার টাকা।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া বাস ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, দেশের অনেক পুরোনো বাসই নির্ধারিত আয়ুষ্কালের বাইরে চলছে। ২০১৮-১৯ সালের পর বিআরটিসির বহরে নতুন বাস যুক্ত না হওয়ায় বিদ্যমান বাস দিয়েই প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।তিনি জানান, প্রয়োজন বিবেচনা করেই পিংক বাসগুলো চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত হলে পুরোনো বাসগুলো পরিবর্তন করা হবে।

লোকসানের বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, সার্ভিসটিকে লাভজনক করার জন্য চেষ্টা চলছে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য না এলে সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা চাওয়া হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীদের জন্য চালু করা এই পরিবহন ব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে শুধু পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন করলেই হবে না; যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রুট ও বাসের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে বেসরকারি পরিবহনকেও পরিকল্পিতভাবে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশে নারীদের জন্য পৃথক গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ নতুন নয়। অতীতেও বিআরটিসি বিভিন্ন সময়ে নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস ও রুট চালু করেছিল। তবে এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।ফলে নতুন করে চালু হওয়া পিংক বাস সার্ভিসকে টেকসই করতে শুরুতেই পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, যাত্রী চাহিদা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে নারীদের জন্য নেওয়া এই উদ্যোগও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0