স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে তাকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক তার বিভিন্ন নথি তলব করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের মতো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে আবারও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিতে অনিয়মের যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে, সেটিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন করে পদায়নের ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিও তলব করা হয়েছে। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অনুসন্ধানের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ জন্য চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
তবে দুদকের এই কার্যক্রমকে স্বাভাবিক অনুসন্ধান হিসেবে দেখছেন না আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফাঁসানোর চেয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ সামনে এনে মূলত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা হচ্ছে। তার দাবি, তাকে ফাঁসানোর মতো যথেষ্ট ভিত্তি নেই এবং তার পক্ষে পিএসসির সুপারিশসহ আদালতের রায় রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুপুরে অনুসন্ধান শুরু করে কীভাবে বিকেলেই কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া সম্ভব। তার ভাষায়, অনুসন্ধানের চেয়ে গণমাধ্যমে তাকে অভিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরাই যেন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আসিফ মাহমুদের আরও অভিযোগ, বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতেই বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
দুদকের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠিত হবে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান দুদকের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের আমলের দুদকের কার্যক্রমে তিনি তেমন কোনো পার্থক্য দেখছেন না।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা। তিনি মনে করেন, অভিযোগের পাশাপাশি এর পেছনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে তাকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক তার বিভিন্ন নথি তলব করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের মতো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে আবারও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিতে অনিয়মের যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে, সেটিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন করে পদায়নের ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিও তলব করা হয়েছে। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অনুসন্ধানের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ জন্য চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
তবে দুদকের এই কার্যক্রমকে স্বাভাবিক অনুসন্ধান হিসেবে দেখছেন না আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফাঁসানোর চেয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ সামনে এনে মূলত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা হচ্ছে। তার দাবি, তাকে ফাঁসানোর মতো যথেষ্ট ভিত্তি নেই এবং তার পক্ষে পিএসসির সুপারিশসহ আদালতের রায় রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুপুরে অনুসন্ধান শুরু করে কীভাবে বিকেলেই কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া সম্ভব। তার ভাষায়, অনুসন্ধানের চেয়ে গণমাধ্যমে তাকে অভিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরাই যেন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আসিফ মাহমুদের আরও অভিযোগ, বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতেই বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
দুদকের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠিত হবে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান দুদকের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের আমলের দুদকের কার্যক্রমে তিনি তেমন কোনো পার্থক্য দেখছেন না।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা। তিনি মনে করেন, অভিযোগের পাশাপাশি এর পেছনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন