রহস্যের অনুসন্ধান করাই ছিল তাঁর কাজ। ভূত, অতিপ্রাকৃত ঘটনা ও অজানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন ভারতের পরিচিত প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর গৌরব তিওয়ারি। কিন্তু মাত্র ৩২ বছর বয়সে তাঁর নিজের মৃত্যুই পরিণত হয় এক রহস্যে।২০১৬ সালের ৭ জুলাই দিল্লির দ্বারকায় নিজ বাড়ির বাথরুম থেকে গৌরবের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকাল ১১টার দিকে তিনি গোসল করতে বাথরুমে ঢুকেছিলেন। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে জোরে শব্দ শুনে তাঁকে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তে গৌরবের গলায় একটি মোটা কালো দাগ পাওয়া যায়। তবে বাথরুমে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ওঠে।
গৌরব তিওয়ারির জন্ম ১৯৮৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পরিবারের ইচ্ছায় তিনি পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানেই এক বাড়িতে থাকার সময় কথিত কিছু অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার পর অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্যারানরমাল বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন এবং স্পিরিচুয়াল কাউন্সেলর ও হিপনোটিস্ট হিসেবে সনদ অর্জন করেন। ২০০৯ সালে ভারতে ফিরে গড়ে তোলেন Indian Paranormal Society। এরপর দেশজুড়ে বিভিন্ন পুরোনো বাড়ি, দুর্গ, সমাধিক্ষেত্র ও কথিত ভৌতিক স্থানে অভিযান চালাতে থাকেন।তাঁর দাবি অনুযায়ী, জীবদ্দশায় তিনি প্রায় ৬ হাজার প্যারানরমাল তদন্তে অংশ নিয়েছিলেন। টেলিভিশনের বিভিন্ন জনপ্রিয় অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতি ছিল। ভারতের আলোচিত ভানগড় দুর্গ নিয়েও তিনি অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন।মৃত্যুর কয়েক দিন আগে গৌরব তাঁর বাবা ও স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, কোনো একটি অশুভ শক্তি তাঁকে অনুসরণ করছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। পরিবার অবশ্য বিষয়টিকে তখন কাজের চাপ বা মানসিক উদ্বেগ হিসেবে দেখেছিল।তদন্তে আরও জানা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে গৌরবের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কিছুটা বিরোধ হয়েছিল। তবে মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই ই-মেইল দেখেছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন বলে জানা যায়।মৃত্যুর মাত্র পাঁচ মাস আগে স্ত্রী আর্যার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের দাবি ছিল, আত্মহত্যা করার মতো আর্থিক বা ব্যক্তিগত সংকট তাঁর ছিল না। অন্যদিকে পুলিশ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা উঠে আসে।
তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—যদি আত্মহত্যাই হয়ে থাকে, তাহলে গলায় থাকা সেই কালো দাগের কারণ কী? আর কেনই বা তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল না?যে মানুষটি সারা জীবন অন্যের জীবনের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেছিলেন, তাঁর নিজের মৃত্যুর রহস্যেরও আজ পর্যন্ত স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
রহস্যের অনুসন্ধান করাই ছিল তাঁর কাজ। ভূত, অতিপ্রাকৃত ঘটনা ও অজানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন ভারতের পরিচিত প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর গৌরব তিওয়ারি। কিন্তু মাত্র ৩২ বছর বয়সে তাঁর নিজের মৃত্যুই পরিণত হয় এক রহস্যে।২০১৬ সালের ৭ জুলাই দিল্লির দ্বারকায় নিজ বাড়ির বাথরুম থেকে গৌরবের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকাল ১১টার দিকে তিনি গোসল করতে বাথরুমে ঢুকেছিলেন। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে জোরে শব্দ শুনে তাঁকে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তে গৌরবের গলায় একটি মোটা কালো দাগ পাওয়া যায়। তবে বাথরুমে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ওঠে।
গৌরব তিওয়ারির জন্ম ১৯৮৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পরিবারের ইচ্ছায় তিনি পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানেই এক বাড়িতে থাকার সময় কথিত কিছু অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার পর অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্যারানরমাল বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন এবং স্পিরিচুয়াল কাউন্সেলর ও হিপনোটিস্ট হিসেবে সনদ অর্জন করেন। ২০০৯ সালে ভারতে ফিরে গড়ে তোলেন Indian Paranormal Society। এরপর দেশজুড়ে বিভিন্ন পুরোনো বাড়ি, দুর্গ, সমাধিক্ষেত্র ও কথিত ভৌতিক স্থানে অভিযান চালাতে থাকেন।তাঁর দাবি অনুযায়ী, জীবদ্দশায় তিনি প্রায় ৬ হাজার প্যারানরমাল তদন্তে অংশ নিয়েছিলেন। টেলিভিশনের বিভিন্ন জনপ্রিয় অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতি ছিল। ভারতের আলোচিত ভানগড় দুর্গ নিয়েও তিনি অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন।মৃত্যুর কয়েক দিন আগে গৌরব তাঁর বাবা ও স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, কোনো একটি অশুভ শক্তি তাঁকে অনুসরণ করছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। পরিবার অবশ্য বিষয়টিকে তখন কাজের চাপ বা মানসিক উদ্বেগ হিসেবে দেখেছিল।তদন্তে আরও জানা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে গৌরবের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কিছুটা বিরোধ হয়েছিল। তবে মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই ই-মেইল দেখেছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন বলে জানা যায়।মৃত্যুর মাত্র পাঁচ মাস আগে স্ত্রী আর্যার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের দাবি ছিল, আত্মহত্যা করার মতো আর্থিক বা ব্যক্তিগত সংকট তাঁর ছিল না। অন্যদিকে পুলিশ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা উঠে আসে।
তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—যদি আত্মহত্যাই হয়ে থাকে, তাহলে গলায় থাকা সেই কালো দাগের কারণ কী? আর কেনই বা তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল না?যে মানুষটি সারা জীবন অন্যের জীবনের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেছিলেন, তাঁর নিজের মৃত্যুর রহস্যেরও আজ পর্যন্ত স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন