English / বাংলা
Editorial News 24

গণশুনানিতে প্রশ্ন

সৌরবিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব


প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

 সৌরবিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব

নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিক্রির ট্যারিফ প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। তবে গণশুনানিতে এই দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের কেউ কেউ ভারতের তুলনায় প্রস্তাবিত দাম বেশি বলেও মন্তব্য করেছেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গতকাল অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এ প্রস্তাব তুলে ধরে।কমিটির হিসাবে, ৫০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, কর্মী ও প্রশাসনিক ব্যয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিনিয়োগের ওপর রিটার্নসহ বিভিন্ন খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এ ছাড়া মিটার, স্বয়ংক্রিয় মিটার রিডিং (এএমআর), মিটার পরীক্ষা ও সিলিং, বিলিং ও সংগ্রহ, বিতরণব্যবস্থার ক্ষতি এবং এনার্জি ম্যানেজমেন্টের খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। বছরে প্রায় ৯১ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় প্রায় ৫৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রের সক্ষমতার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ব্যাটারি স্টোরেজের ব্যবস্থা রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মো. দিদারুল আলম এসব তথ্য জানান।গণশুনানিতে প্রস্তাবিত দাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত দাম অনেক বেশি। পাকিস্তানের বিদ্যুতের দামের সঙ্গেও তুলনা করে তিনি প্রস্তাবিত ট্যারিফকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।জবাবে বিইআরসির কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু প্যারামিটার ও ব্যয়ের হিসাবের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্যারামিটারে পরিবর্তন এলে ট্যারিফেও পরিবর্তন হতে পারে।

গণশুনানিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবউননেছা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি উৎপাদন ব্যয়, বেঞ্চমার্ক এবং দেশ-বিদেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ প্রকাশের দাবি জানান।ফ্লোসোলারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাকসেস কাঠামো আরও ব্যবসাবান্ধব করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অতিরিক্ত চার্জের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল হলে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে বিদ্যুতের দামের সঙ্গে বিভিন্ন চার্জ যুক্ত করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী। তিনি এসব চার্জ নির্ধারণে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যাচাই করা বেঞ্চমার্ক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।গণশুনানি শেষে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ব্যাটারি স্টোরেজের খরচসহ কয়েকটি বিষয় আরও যাচাই করা প্রয়োজন। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত ট্যারিফ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দাম বা অন্যান্য বিষয়ে কারও বক্তব্য বা আপত্তি থাকলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কমিশনে তা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সৌরবিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিক্রির ট্যারিফ প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। তবে গণশুনানিতে এই দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের কেউ কেউ ভারতের তুলনায় প্রস্তাবিত দাম বেশি বলেও মন্তব্য করেছেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গতকাল অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এ প্রস্তাব তুলে ধরে।কমিটির হিসাবে, ৫০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, কর্মী ও প্রশাসনিক ব্যয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিনিয়োগের ওপর রিটার্নসহ বিভিন্ন খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এ ছাড়া মিটার, স্বয়ংক্রিয় মিটার রিডিং (এএমআর), মিটার পরীক্ষা ও সিলিং, বিলিং ও সংগ্রহ, বিতরণব্যবস্থার ক্ষতি এবং এনার্জি ম্যানেজমেন্টের খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। বছরে প্রায় ৯১ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় প্রায় ৫৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রের সক্ষমতার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ব্যাটারি স্টোরেজের ব্যবস্থা রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মো. দিদারুল আলম এসব তথ্য জানান।গণশুনানিতে প্রস্তাবিত দাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত দাম অনেক বেশি। পাকিস্তানের বিদ্যুতের দামের সঙ্গেও তুলনা করে তিনি প্রস্তাবিত ট্যারিফকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।জবাবে বিইআরসির কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু প্যারামিটার ও ব্যয়ের হিসাবের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্যারামিটারে পরিবর্তন এলে ট্যারিফেও পরিবর্তন হতে পারে।

গণশুনানিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবউননেছা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি উৎপাদন ব্যয়, বেঞ্চমার্ক এবং দেশ-বিদেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ প্রকাশের দাবি জানান।ফ্লোসোলারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাকসেস কাঠামো আরও ব্যবসাবান্ধব করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অতিরিক্ত চার্জের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল হলে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে বিদ্যুতের দামের সঙ্গে বিভিন্ন চার্জ যুক্ত করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী। তিনি এসব চার্জ নির্ধারণে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যাচাই করা বেঞ্চমার্ক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।গণশুনানি শেষে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ব্যাটারি স্টোরেজের খরচসহ কয়েকটি বিষয় আরও যাচাই করা প্রয়োজন। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত ট্যারিফ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দাম বা অন্যান্য বিষয়ে কারও বক্তব্য বা আপত্তি থাকলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কমিশনে তা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0