English / বাংলা
Editorial News 24

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত সরকারের তথ্যচিত্রে শহীদ আবু সাঈদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অন্তর্ভুক্ত না করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আবু সাঈদ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের ডকুমেন্টারি হয় না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি


প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

আবু সাঈদ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের ডকুমেন্টারি হয় না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত সরকারের তথ্যচিত্রে শহীদ আবু সাঈদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অন্তর্ভুক্ত না করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত কোনো প্রামাণ্যচিত্র বলা চলে না।

বুধবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে 'জুলাই শহীদ দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ওই বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের তীব্র আপত্তির মুখে পড়তে হয়। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠানস্থলে চরম হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রীয় আয়োজনে প্রদর্শিত এই ডকুমেন্টারিটিতে অনেক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। স্ক্রিনিং চলাকালেই বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান প্রতিচ্ছবি ও চিরন্তন প্রতীক। তাকে বাদ দিয়ে কোনো তথ্যচিত্র তৈরি করা হলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনে অবদানের কথা স্মরণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল বলে অভিমত দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও প্রতিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ভুল স্বীকার করার পর সবার শান্ত হওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি মনে পুষে রেখে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ওয়াকআউট করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মোটেও সমীচীন নয়।

বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং আপনাদেরই নির্বাচিত সরকার। আমাদের কাজের মধ্যে কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকলে নাগরিক হিসেবে তা শুধরে দেওয়ার অধিকার আপনাদের রয়েছে। আমরা কোনোভাবেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো হতে পারি না। কারণ তাদের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ বা অপরাধবোধ ছিল না।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শনের পরপরই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, তৈরি করা তথ্যচিত্রটিতে আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস, রাজপথের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। প্রতিবাদকারীরা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানালে পুরো মিলনায়তনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয় : গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্রপতি ডকুমেন্টারি গণঅভ্যুত্থান

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


আবু সাঈদ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের ডকুমেন্টারি হয় না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত সরকারের তথ্যচিত্রে শহীদ আবু সাঈদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অন্তর্ভুক্ত না করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত কোনো প্রামাণ্যচিত্র বলা চলে না।

বুধবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে 'জুলাই শহীদ দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ওই বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের তীব্র আপত্তির মুখে পড়তে হয়। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠানস্থলে চরম হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রীয় আয়োজনে প্রদর্শিত এই ডকুমেন্টারিটিতে অনেক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। স্ক্রিনিং চলাকালেই বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান প্রতিচ্ছবি ও চিরন্তন প্রতীক। তাকে বাদ দিয়ে কোনো তথ্যচিত্র তৈরি করা হলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনে অবদানের কথা স্মরণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল বলে অভিমত দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও প্রতিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ভুল স্বীকার করার পর সবার শান্ত হওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি মনে পুষে রেখে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ওয়াকআউট করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মোটেও সমীচীন নয়।

বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং আপনাদেরই নির্বাচিত সরকার। আমাদের কাজের মধ্যে কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকলে নাগরিক হিসেবে তা শুধরে দেওয়ার অধিকার আপনাদের রয়েছে। আমরা কোনোভাবেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো হতে পারি না। কারণ তাদের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ বা অপরাধবোধ ছিল না।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শনের পরপরই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, তৈরি করা তথ্যচিত্রটিতে আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস, রাজপথের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। প্রতিবাদকারীরা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানালে পুরো মিলনায়তনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0