২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে অবসান ঘটে তাঁর টানা ১৫ বছরের শাসনের। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি ও ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করে— ‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস’। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনার পদত্যাগে দেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের খবরে তুলে ধরে, কীভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে একদফা সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং এনপিআর তুলে ধরে সেনাপ্রধানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা ও সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বানের বিষয়টি। এনপিআর জানায়, কঠোর সান্ধ্য আইন বা কারফিউ অমান্য করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান সেনাপ্রধানের বরাতে নিশ্চিত করে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগের কথা।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনা ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। আনন্দবাজার পত্রিকা বিস্তারিত খবরে জানায়, শেখ হাসিনা তাঁর বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে ঢাকার বাসভবন ছাড়েন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হন। ইন্ডিয়া টুডে তাদের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দিল্লির গাজিয়াবাদে অবস্থিত হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণের চিত্র ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের স্বাগত জানানোর তথ্য প্রকাশ করে।
ক্যাটারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা গণভবনে সাধারণ মানুষের উল্লাসের দৃশ্য সরাসরি তুলে ধরে। এছাড়া দ্য ডিপ্লোম্যাট ও এএফপি শেখ হাসিনার ১৫ বছরের একচ্ছত্র শাসনের পতনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মোড় হিসেবে বর্ণনা করে। অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্দোলন চলাকালীন প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। বিশ্ব গণমাধ্যমের এই চোখ ধাঁধানো কভারেজ প্রমাণ করে, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বিশ্বরাজনীতিতেও এক গভীর প্রভাব ফেলেছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে অবসান ঘটে তাঁর টানা ১৫ বছরের শাসনের। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি ও ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করে— ‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস’। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনার পদত্যাগে দেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের খবরে তুলে ধরে, কীভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে একদফা সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং এনপিআর তুলে ধরে সেনাপ্রধানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা ও সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বানের বিষয়টি। এনপিআর জানায়, কঠোর সান্ধ্য আইন বা কারফিউ অমান্য করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান সেনাপ্রধানের বরাতে নিশ্চিত করে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগের কথা।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনা ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। আনন্দবাজার পত্রিকা বিস্তারিত খবরে জানায়, শেখ হাসিনা তাঁর বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে ঢাকার বাসভবন ছাড়েন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হন। ইন্ডিয়া টুডে তাদের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দিল্লির গাজিয়াবাদে অবস্থিত হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণের চিত্র ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের স্বাগত জানানোর তথ্য প্রকাশ করে।
ক্যাটারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা গণভবনে সাধারণ মানুষের উল্লাসের দৃশ্য সরাসরি তুলে ধরে। এছাড়া দ্য ডিপ্লোম্যাট ও এএফপি শেখ হাসিনার ১৫ বছরের একচ্ছত্র শাসনের পতনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মোড় হিসেবে বর্ণনা করে। অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্দোলন চলাকালীন প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। বিশ্ব গণমাধ্যমের এই চোখ ধাঁধানো কভারেজ প্রমাণ করে, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বিশ্বরাজনীতিতেও এক গভীর প্রভাব ফেলেছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন