English / বাংলা
Editorial News 24

অন্যদিকে, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী এসব নিয়োগ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে দিয়ে থাকেন।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে আসছে সংবিধান সংশোধনী


প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে আসছে সংবিধান সংশোধনী

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। পাশাপাশি আরও কয়েকটি সাংবিধানিক বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।তবে এ বিষয়ে বিএনপির আংশিক আপত্তি রয়েছে। দলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে নয়। এ দুটি বিষয় জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী এসব নিয়োগ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে দিয়ে থাকেন।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা শেষে বিএনপির আপত্তির বিষয়গুলোতে সমঝোতা হলে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ-সংক্রান্ত ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের সাংবিধানিক ক্ষমতা বহাল রাখা হচ্ছে। তবে মৃত্যুদণ্ডসহ যেকোনো দণ্ড মওকুফ বা লঘু করার আবেদন বিবেচনার আগে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া প্রায় সব রাষ্ট্রীয় বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। এখন বিষয়টি সংবিধান সংশোধন কমিটি কীভাবে বিবেচনা করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে দলের মৌলিক আপত্তি নেই। তবে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এককেন্দ্রিক ক্ষমতার প্রবণতা কমবে। এতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটিকে ১৭ সদস্যে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিটিতে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো কোনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে আসছে সংবিধান সংশোধনী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। পাশাপাশি আরও কয়েকটি সাংবিধানিক বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।তবে এ বিষয়ে বিএনপির আংশিক আপত্তি রয়েছে। দলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে নয়। এ দুটি বিষয় জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী এসব নিয়োগ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে দিয়ে থাকেন।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা শেষে বিএনপির আপত্তির বিষয়গুলোতে সমঝোতা হলে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ-সংক্রান্ত ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের সাংবিধানিক ক্ষমতা বহাল রাখা হচ্ছে। তবে মৃত্যুদণ্ডসহ যেকোনো দণ্ড মওকুফ বা লঘু করার আবেদন বিবেচনার আগে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া প্রায় সব রাষ্ট্রীয় বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। এখন বিষয়টি সংবিধান সংশোধন কমিটি কীভাবে বিবেচনা করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে দলের মৌলিক আপত্তি নেই। তবে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এককেন্দ্রিক ক্ষমতার প্রবণতা কমবে। এতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটিকে ১৭ সদস্যে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিটিতে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো কোনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0