টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ। ঘরবাড়িতে কোমর থেকে বুকসমান পানি, রান্নার সুযোগ নেই, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে পানিবন্দি মানুষ এখন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক কাঁচা ও মাটির ঘর ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার একটি সাতকানিয়া। উপজেলা জুড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঢেমশা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানির নিচে থাকায় নৌকাই এখন একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। কিন্তু নৌকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ১০ থেকে ১২ জন ধারণক্ষমতার একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার দৈনিক ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। টাকা দিয়েও নৌকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন গর্ভবতী নারীরা।তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
বন্যার কারণে কেরানীহাট থেকে সাতকানিয়া উপজেলা সদর পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে গেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে প্রবল স্রোত পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের সময় নৌকাও পাওয়া যাচ্ছে না।সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রশাসন সীমিতসংখ্যক নৌকা সংগ্রহ করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
উপকূলীয় বাঁশখালী উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে থাকায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বাঁশখালী পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের আসকরিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ নামের এক বৃদ্ধকে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ত্রাণের আবেদন জানাতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, জীবনের ৬৭ বছরে এত ভয়াবহ বন্যা তিনি কখনো দেখেননি।
বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল মল্লিক জানান, তাদের এলাকায় কোমর থেকে গলাসমান পানি। অসংখ্য কাঁচা ও মাটির ঘর ধসে পড়েছে। সরকারি ত্রাণ এখনও সেখানে পৌঁছেনি। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। রান্নার সুযোগ না থাকায় অনেক পরিবার না খেয়েই দিন পার করছে।ছনুয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সুহিন জানান, এখনও অনেক বাড়িতে কোমরসমান পানি রয়েছে। মাটির তৈরি ঘরগুলো একের পর এক ধসে পড়ছে।
শনিবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বাঁশখালীর বিভিন্ন দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি জানান, জেলার কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কমবেশি বন্যার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ। ঘরবাড়িতে কোমর থেকে বুকসমান পানি, রান্নার সুযোগ নেই, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে পানিবন্দি মানুষ এখন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক কাঁচা ও মাটির ঘর ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার একটি সাতকানিয়া। উপজেলা জুড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঢেমশা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানির নিচে থাকায় নৌকাই এখন একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। কিন্তু নৌকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ১০ থেকে ১২ জন ধারণক্ষমতার একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার দৈনিক ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। টাকা দিয়েও নৌকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন গর্ভবতী নারীরা।তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
বন্যার কারণে কেরানীহাট থেকে সাতকানিয়া উপজেলা সদর পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে গেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে প্রবল স্রোত পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের সময় নৌকাও পাওয়া যাচ্ছে না।সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রশাসন সীমিতসংখ্যক নৌকা সংগ্রহ করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
উপকূলীয় বাঁশখালী উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে থাকায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বাঁশখালী পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের আসকরিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ নামের এক বৃদ্ধকে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ত্রাণের আবেদন জানাতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, জীবনের ৬৭ বছরে এত ভয়াবহ বন্যা তিনি কখনো দেখেননি।
বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল মল্লিক জানান, তাদের এলাকায় কোমর থেকে গলাসমান পানি। অসংখ্য কাঁচা ও মাটির ঘর ধসে পড়েছে। সরকারি ত্রাণ এখনও সেখানে পৌঁছেনি। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। রান্নার সুযোগ না থাকায় অনেক পরিবার না খেয়েই দিন পার করছে।ছনুয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সুহিন জানান, এখনও অনেক বাড়িতে কোমরসমান পানি রয়েছে। মাটির তৈরি ঘরগুলো একের পর এক ধসে পড়ছে।
শনিবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বাঁশখালীর বিভিন্ন দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি জানান, জেলার কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কমবেশি বন্যার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন