English / বাংলা
Editorial News 24

সিআইডির তদন্তে বলা হয়েছে, চোরাচালান, প্রতারণা, সরকারি সম্পদ দখল ও অর্থপাচারের মাধ্যমে ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে

দেশি গরুকেই ‘উচ্চবংশীয়’ বলে বিক্রির অভিযোগ সাদিক অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে


প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

দেশি গরুকেই ‘উচ্চবংশীয়’ বলে বিক্রির অভিযোগ সাদিক অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে

সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেডের বিরুদ্ধে দেশি গরু-ছাগলকে ‘বিদেশি’ ও ‘উচ্চবংশীয়’ বলে প্রচার করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভুটান ও নেপাল থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু দেশে আনার তথ্যও উঠে এসেছে সংস্থাটির তদন্তে।

সিআইডির তদন্তে বলা হয়েছে, চোরাচালান, প্রতারণা, সরকারি সম্পদ দখল ও অর্থপাচারের মাধ্যমে ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে এবং ভুটান ও নেপাল থেকে ছোট আকৃতির ‘ভুট্টি’ গরু অবৈধভাবে এনে দেশের বিভিন্ন খামার ও বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো।এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি, প্রায় ৮৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচার, সরকারি খাল ও সড়ক দখল এবং গবাদিপশু আত্মসাতের অভিযোগেরও প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।

২০২৪ সালের কোরবানির ঈদের আগে সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ‘উচ্চবংশীয়’ ছাগল কেনার ঘটনায় আলোচনায় আসেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান। এরপর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মোহাম্মদপুর থানায় সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডি। প্রায় এক বছরের তদন্ত শেষে গত ৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি। বর্তমানে ইমরান হোসেন কারাগারে থাকলেও তৌহিদুল আলম পলাতক।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০টি গাভিন ব্রাহমা হিফার আমদানির অনুমতি চাইলেও জাতীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নীতিমালার কারণে আবেদনটি বাতিল হয়। এরপরও অনুমোদন ছাড়াই ১৮টি ব্রাহমা গরু দেশে আনা হয়। এ কাজে বিমানবন্দরের লাইভস্টক কোয়ারেন্টিন স্টেশনের এক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আমদানি অনুমতিপত্র তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (বাজেট) এ বি এম খালেদুজ্জামান জানান, সিআইডির তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি তাদের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ব্রাহমা গরু আমদানির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে ২০২৪ সালের জুনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালালেও মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় সরকারি খাল ও সড়কের জায়গা এখনো সাদিক অ্যাগ্রোর দখলে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির গরুর খামার ও বেকারির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

খামারের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে খামারে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১০০টি গরু রয়েছে। তবে চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় এবং নিয়োজিত ব্যবস্থাপক দায়িত্বে না থাকায় বর্তমানে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


দেশি গরুকেই ‘উচ্চবংশীয়’ বলে বিক্রির অভিযোগ সাদিক অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেডের বিরুদ্ধে দেশি গরু-ছাগলকে ‘বিদেশি’ ও ‘উচ্চবংশীয়’ বলে প্রচার করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভুটান ও নেপাল থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু দেশে আনার তথ্যও উঠে এসেছে সংস্থাটির তদন্তে।

সিআইডির তদন্তে বলা হয়েছে, চোরাচালান, প্রতারণা, সরকারি সম্পদ দখল ও অর্থপাচারের মাধ্যমে ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে এবং ভুটান ও নেপাল থেকে ছোট আকৃতির ‘ভুট্টি’ গরু অবৈধভাবে এনে দেশের বিভিন্ন খামার ও বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো।এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি, প্রায় ৮৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচার, সরকারি খাল ও সড়ক দখল এবং গবাদিপশু আত্মসাতের অভিযোগেরও প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।

২০২৪ সালের কোরবানির ঈদের আগে সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ‘উচ্চবংশীয়’ ছাগল কেনার ঘটনায় আলোচনায় আসেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান। এরপর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মোহাম্মদপুর থানায় সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডি। প্রায় এক বছরের তদন্ত শেষে গত ৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি। বর্তমানে ইমরান হোসেন কারাগারে থাকলেও তৌহিদুল আলম পলাতক।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০টি গাভিন ব্রাহমা হিফার আমদানির অনুমতি চাইলেও জাতীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নীতিমালার কারণে আবেদনটি বাতিল হয়। এরপরও অনুমোদন ছাড়াই ১৮টি ব্রাহমা গরু দেশে আনা হয়। এ কাজে বিমানবন্দরের লাইভস্টক কোয়ারেন্টিন স্টেশনের এক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আমদানি অনুমতিপত্র তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (বাজেট) এ বি এম খালেদুজ্জামান জানান, সিআইডির তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি তাদের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ব্রাহমা গরু আমদানির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে ২০২৪ সালের জুনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালালেও মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় সরকারি খাল ও সড়কের জায়গা এখনো সাদিক অ্যাগ্রোর দখলে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির গরুর খামার ও বেকারির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

খামারের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে খামারে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১০০টি গরু রয়েছে। তবে চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় এবং নিয়োজিত ব্যবস্থাপক দায়িত্বে না থাকায় বর্তমানে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0