English / বাংলা
Editorial News 24

৫ থেকে ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ প্রথমবারের মতো উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার-ভিডিপি প্লাটুনের অংশগ্রহণ; আন্তঃবাহিনী সমন্বয় ও জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রথমবার সব ডিভিশনে আনসার-ভিডিপির অংশগ্রহণ, শক্তিশালী হচ্ছে জাতীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয়


প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রথমবার সব ডিভিশনে আনসার-ভিডিপির অংশগ্রহণ, শক্তিশালী হচ্ছে জাতীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয়

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ প্রথমবারের মতো দেশের সব ডিভিশনে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)-এর প্লাটুন সদস্যরা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। ৫ জুলাই শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহড়ায় অংশ নেওয়ার আগে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা তিন দিনব্যাপী অন দ্য জব ট্রেনিং (OJT) সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণে রেইড, অ্যাম্বুশ, ফার্ম বেস স্থাপন, এলাকা নিরাপত্তা, টহল এবং ক্ষুদ্র সামরিক অভিযানের (Minor Operations) বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। এর মাধ্যমে সদস্যদের বাস্তব পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমান মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পুনর্গঠিত তরুণ, শিক্ষিত ও দক্ষ আনসার-ভিডিপি প্লাটুনগুলোর এই অংশগ্রহণকে বাহিনীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি সেনাবাহিনী ও সহযোগী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন মাত্রা

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করে তুলবে। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি হাইব্রিড যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত সংকট এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র নিয়মিত সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।

এমন বাস্তবতায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী ও সহযোগী বাহিনীকে নিয়মিত সামরিক মহড়ায় যুক্ত করা ভবিষ্যতের যেকোনো সংকটে দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তঃবাহিনী সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে

সেনাবাহিনী ও আনসার-ভিডিপির যৌথ মহড়ার সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে Interoperability বা আন্তঃবাহিনী কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি। একই পরিকল্পনা, একই কমান্ড কাঠামো এবং একই অপারেশনাল পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে যৌথ অভিযানের সক্ষমতা বাড়াবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা কিংবা জাতীয় জরুরি অবস্থায় প্রশিক্ষিত আনসার সদস্যরা সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারবেন।

তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি দেশের সবচেয়ে বড় শৃঙ্খলাবদ্ধ স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিস্তৃত এই বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন জাতীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এবার প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর ডিভিশনভিত্তিক মহড়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করার একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশিক্ষিত স্থানীয় জনশক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য

বিশ্বের অনেক দেশেই নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি রিজার্ভ, টেরিটোরিয়াল বা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীকে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশেও সেনাবাহিনী ও আনসার-ভিডিপির এই যৌথ মহড়া ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুদ্ধ ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সহযোগী বাহিনীর অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।

গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ প্রথমবারের মতো সব ডিভিশনে আনসার ও ভিডিপির অংশগ্রহণ তাই শুধু একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নয়; বরং জাতীয় প্রতিরক্ষা, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Image

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রথমবার সব ডিভিশনে আনসার-ভিডিপির অংশগ্রহণ, শক্তিশালী হচ্ছে জাতীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয়

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ প্রথমবারের মতো দেশের সব ডিভিশনে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)-এর প্লাটুন সদস্যরা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। ৫ জুলাই শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহড়ায় অংশ নেওয়ার আগে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা তিন দিনব্যাপী অন দ্য জব ট্রেনিং (OJT) সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণে রেইড, অ্যাম্বুশ, ফার্ম বেস স্থাপন, এলাকা নিরাপত্তা, টহল এবং ক্ষুদ্র সামরিক অভিযানের (Minor Operations) বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। এর মাধ্যমে সদস্যদের বাস্তব পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমান মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পুনর্গঠিত তরুণ, শিক্ষিত ও দক্ষ আনসার-ভিডিপি প্লাটুনগুলোর এই অংশগ্রহণকে বাহিনীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি সেনাবাহিনী ও সহযোগী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন মাত্রা

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করে তুলবে। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি হাইব্রিড যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত সংকট এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র নিয়মিত সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।

এমন বাস্তবতায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী ও সহযোগী বাহিনীকে নিয়মিত সামরিক মহড়ায় যুক্ত করা ভবিষ্যতের যেকোনো সংকটে দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তঃবাহিনী সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে

সেনাবাহিনী ও আনসার-ভিডিপির যৌথ মহড়ার সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে Interoperability বা আন্তঃবাহিনী কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি। একই পরিকল্পনা, একই কমান্ড কাঠামো এবং একই অপারেশনাল পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে যৌথ অভিযানের সক্ষমতা বাড়াবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা কিংবা জাতীয় জরুরি অবস্থায় প্রশিক্ষিত আনসার সদস্যরা সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারবেন।

তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি দেশের সবচেয়ে বড় শৃঙ্খলাবদ্ধ স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিস্তৃত এই বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন জাতীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এবার প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর ডিভিশনভিত্তিক মহড়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করার একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশিক্ষিত স্থানীয় জনশক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য

বিশ্বের অনেক দেশেই নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি রিজার্ভ, টেরিটোরিয়াল বা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীকে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশেও সেনাবাহিনী ও আনসার-ভিডিপির এই যৌথ মহড়া ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুদ্ধ ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সহযোগী বাহিনীর অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।

গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ প্রথমবারের মতো সব ডিভিশনে আনসার ও ভিডিপির অংশগ্রহণ তাই শুধু একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নয়; বরং জাতীয় প্রতিরক্ষা, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0