English / বাংলা
Editorial News 24

কূটনৈতিক নিরাপত্তা, তথ্য বিনিময় ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রথমবারের মতো সমন্বয় সভা; সাইবার অপরাধ, মানব পাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে যৌথ কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব

বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগ


প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগ

বাংলাদেশ পুলিশ বৈশ্বিক অপরাধের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। কূটনৈতিক নিরাপত্তা, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘Diplomatic Security Cooperation, Information Sharing and Capacity Building of Bangladesh Police’ শীর্ষক একটি সমন্বয় সভা।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

এছাড়া ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম তুলে ধরে একটি প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার হামলা, ডিজিটাল জালিয়াতি, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অপরাধ, ডিপফেক এবং ভুল তথ্য বা অপতথ্য এখন শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়; এগুলো বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক পুলিশিংয়ের বড় একটি অংশই এখন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ তদন্তের সঙ্গে যুক্ত। একাধিক দেশের বিচারব্যবস্থা, বিদেশি নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের মতো জটিল বিষয় মোকাবিলায় কার্যকর কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব ও তথ্য বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলেছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্স শাখা, এনসিবি, ইউএন অপারেশন শাখা, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), সিআইডি, পিবিআই এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সক্ষমতার প্রশংসা করেন। তিনি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় কোনো দেশ এককভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, মানব পাচার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি বহন করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে কার্যকর পুলিশিংয়ের অন্যতম ভিত্তি হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক সমন্বয়। এ লক্ষ্যেই বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন অপারেশনাল ইউনিটের সঙ্গে বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভার উন্মুক্ত আলোচনায় পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সভায় উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকরা বাংলাদেশ পুলিশের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ, মানব পাচার, অর্থপাচার, আর্থিক জালিয়াতি ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন উপস্থিত সকল অতিথিকে ধন্যবাদ জানান। সভায় বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ পুলিশ বৈশ্বিক অপরাধের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। কূটনৈতিক নিরাপত্তা, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘Diplomatic Security Cooperation, Information Sharing and Capacity Building of Bangladesh Police’ শীর্ষক একটি সমন্বয় সভা।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

এছাড়া ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম তুলে ধরে একটি প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার হামলা, ডিজিটাল জালিয়াতি, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অপরাধ, ডিপফেক এবং ভুল তথ্য বা অপতথ্য এখন শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়; এগুলো বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক পুলিশিংয়ের বড় একটি অংশই এখন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ তদন্তের সঙ্গে যুক্ত। একাধিক দেশের বিচারব্যবস্থা, বিদেশি নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের মতো জটিল বিষয় মোকাবিলায় কার্যকর কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব ও তথ্য বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলেছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্স শাখা, এনসিবি, ইউএন অপারেশন শাখা, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), সিআইডি, পিবিআই এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সক্ষমতার প্রশংসা করেন। তিনি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় কোনো দেশ এককভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, মানব পাচার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি বহন করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে কার্যকর পুলিশিংয়ের অন্যতম ভিত্তি হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক সমন্বয়। এ লক্ষ্যেই বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন অপারেশনাল ইউনিটের সঙ্গে বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভার উন্মুক্ত আলোচনায় পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সভায় উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকরা বাংলাদেশ পুলিশের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ, মানব পাচার, অর্থপাচার, আর্থিক জালিয়াতি ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন উপস্থিত সকল অতিথিকে ধন্যবাদ জানান। সভায় বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সুপারিশ করা হয়।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0