তবে মনে রাখতে হবে, বৃহস্পতিবার রাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আমল নেই। কুরআন ও সহিহ হাদিসে যে আমলগুলোর উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই এ রাতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পালন করা উত্তম।
জুমার দিন ও জুমার আগের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
"তোমরা জুমার দিন ও জুমার রাতে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।"
দরুদ পাঠের অন্যতম সহজ আমল হলো—
اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد.
সহিহ হাদিসে জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। অনেক আলেমের মতে, বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই এটি পড়া যায়।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত নূরের ব্যবস্থা করা হবে।
আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। তাই বৃহস্পতিবার রাত ইস্তিগফার ও গুনাহ মাফের দোয়া করার উত্তম সময়।
বারবার পড়তে পারেন—
أستغفر الله وأتوب إليه
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি।
রাতের শেষ তৃতীয়াংশ আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। তাই সম্ভব হলে তাহাজ্জুদ আদায় করে নিজের, পরিবারের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উত্তম।
জুমার রাত কুরআন তিলাওয়াতের জন্যও অত্যন্ত উপযোগী। প্রতিদিনের তিলাওয়াতের পাশাপাশি সূরা ইয়াসিন, সূরা আল-মুলক অথবা অন্যান্য সূরা পড়া যেতে পারে। যদিও বৃহস্পতিবার রাতের জন্য এসব সূরা নির্দিষ্ট করে পড়ার কোনো সহিহ দলিল নেই।
এই রাতে আল্লাহর কাছে নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন এবং মৃত মুসলিমদের জন্য দোয়া করা উত্তম।
বৃহস্পতিবার রাতেই পরদিনের জুমার জন্য মানসিক ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক প্রস্তুত রাখা, সময়মতো মসজিদে যাওয়ার পরিকল্পনা করা এবং জুমার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া ভালো অভ্যাস।
বৃহস্পতিবার রাতের নামে এমন কোনো বিশেষ নামাজ, দোয়া বা নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে আমল করবেন না, যার সহিহ দলিল নেই।
কুরআন ও সহিহ হাদিসে প্রমাণিত আমলগুলোকেই গুরুত্ব দিন।
ইবাদতের পাশাপাশি গিবত, মিথ্যা, ঝগড়া-বিবাদ ও গুনাহ থেকে দূরে থাকুন।
বৃহস্পতিবার রাত একজন মুমিনের জন্য আত্মসমালোচনা, তাওবা, দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি সুন্দর সুযোগ। সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করে এ রাতকে ইবাদতে কাটানোই সর্বোত্তম আমল। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার আগের রাত ও জুমার দিন যথাযথভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
তবে মনে রাখতে হবে, বৃহস্পতিবার রাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আমল নেই। কুরআন ও সহিহ হাদিসে যে আমলগুলোর উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই এ রাতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পালন করা উত্তম।
জুমার দিন ও জুমার আগের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
"তোমরা জুমার দিন ও জুমার রাতে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।"
দরুদ পাঠের অন্যতম সহজ আমল হলো—
اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد.
সহিহ হাদিসে জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। অনেক আলেমের মতে, বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই এটি পড়া যায়।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত নূরের ব্যবস্থা করা হবে।
আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। তাই বৃহস্পতিবার রাত ইস্তিগফার ও গুনাহ মাফের দোয়া করার উত্তম সময়।
বারবার পড়তে পারেন—
أستغفر الله وأتوب إليه
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি।
রাতের শেষ তৃতীয়াংশ আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। তাই সম্ভব হলে তাহাজ্জুদ আদায় করে নিজের, পরিবারের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উত্তম।
জুমার রাত কুরআন তিলাওয়াতের জন্যও অত্যন্ত উপযোগী। প্রতিদিনের তিলাওয়াতের পাশাপাশি সূরা ইয়াসিন, সূরা আল-মুলক অথবা অন্যান্য সূরা পড়া যেতে পারে। যদিও বৃহস্পতিবার রাতের জন্য এসব সূরা নির্দিষ্ট করে পড়ার কোনো সহিহ দলিল নেই।
এই রাতে আল্লাহর কাছে নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন এবং মৃত মুসলিমদের জন্য দোয়া করা উত্তম।
বৃহস্পতিবার রাতেই পরদিনের জুমার জন্য মানসিক ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক প্রস্তুত রাখা, সময়মতো মসজিদে যাওয়ার পরিকল্পনা করা এবং জুমার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া ভালো অভ্যাস।
বৃহস্পতিবার রাতের নামে এমন কোনো বিশেষ নামাজ, দোয়া বা নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে আমল করবেন না, যার সহিহ দলিল নেই।
কুরআন ও সহিহ হাদিসে প্রমাণিত আমলগুলোকেই গুরুত্ব দিন।
ইবাদতের পাশাপাশি গিবত, মিথ্যা, ঝগড়া-বিবাদ ও গুনাহ থেকে দূরে থাকুন।
বৃহস্পতিবার রাত একজন মুমিনের জন্য আত্মসমালোচনা, তাওবা, দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি সুন্দর সুযোগ। সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করে এ রাতকে ইবাদতে কাটানোই সর্বোত্তম আমল। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার আগের রাত ও জুমার দিন যথাযথভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন