English / বাংলা
Editorial News 24

ভারতের লখনউয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার সাবেক ডিন মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই


প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, গবেষক এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। পরে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তাঁর মৃত্যুতে ভারতসহ গোটা উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন দেশের আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ ও ইসলামি চিন্তাবিদরা তাঁর ইন্তেকালকে ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা এবং দাওয়াহ অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জানাজা ও দাফন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আসর নামাজের পর জামিয়া সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলি প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে। জানাজায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য আলেম, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষা ও কর্মজীবন

১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি। তিনি লখনউয়ের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা থেকে হিফজ, স্নাতক এবং হাদিসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে হাদিস গবেষণায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম

মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আরবি, উর্দু, ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। ইসলামী ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, আকিদা, ইতিহাস, দাওয়াহ ও সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন।

এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীর সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে অবদান

তিনি শুধু একজন শিক্ষক বা গবেষকই ছিলেন না; ইসলামী শিক্ষার আধুনিকায়ন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনি ড. আব্দুল আলী ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এর চেয়ারম্যান, জামেয়া দারুল উলুম সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলি-এর চ্যান্সেলর এবং জমিয়ত শাবাব উল ইসলাম-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজীবন জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রমে নিজেকে নিবেদিত রাখা এই প্রখ্যাত আলেমের ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব একজন প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদকে হারাল।

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, গবেষক এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। পরে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তাঁর মৃত্যুতে ভারতসহ গোটা উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন দেশের আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ ও ইসলামি চিন্তাবিদরা তাঁর ইন্তেকালকে ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা এবং দাওয়াহ অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জানাজা ও দাফন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আসর নামাজের পর জামিয়া সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলি প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে। জানাজায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য আলেম, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষা ও কর্মজীবন

১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি। তিনি লখনউয়ের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা থেকে হিফজ, স্নাতক এবং হাদিসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে হাদিস গবেষণায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম

মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আরবি, উর্দু, ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। ইসলামী ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, আকিদা, ইতিহাস, দাওয়াহ ও সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন।

এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীর সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে অবদান

তিনি শুধু একজন শিক্ষক বা গবেষকই ছিলেন না; ইসলামী শিক্ষার আধুনিকায়ন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনি ড. আব্দুল আলী ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এর চেয়ারম্যান, জামেয়া দারুল উলুম সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলি-এর চ্যান্সেলর এবং জমিয়ত শাবাব উল ইসলাম-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজীবন জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রমে নিজেকে নিবেদিত রাখা এই প্রখ্যাত আলেমের ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব একজন প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদকে হারাল।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0