English / বাংলা
Editorial News 24

২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তী ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

১ জুলাই: বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সূচনার দিন, ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়


প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

১ জুলাই: বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সূচনার দিন, ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী ৩৬ দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ২০২৪ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন।

২০২৪ সালের ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার এবং ২০১৮ সালের কোটা বাতিলসংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র পুনর্বহাল।

আন্দোলনের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশের মাধ্যমে ৪ জুলাই পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল কোটা-সংক্রান্ত নীতিমালা পুনর্বিবেচনার জন্য কমিশন গঠন এবং সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা সংস্কার।

একই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা ও প্রতীকী সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এই আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৫ জুন, যখন হাইকোর্ট সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিভিন্ন কোটা পুনর্বহালের আইনি পরিস্থিতি তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলনে নামেন।

পরবর্তী সময়ে আন্দোলন সারা দেশে বিস্তৃত হয়। ১৫ জুলাইয়ের পর সংঘাতের ঘটনা শুরু হয় এবং ১৬ জুলাই থেকে প্রাণহানির খবর আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আন্দোলনকারী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের দাবি কোটা সংস্কারের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতিবছর ১ জুলাই আন্দোলনের সূচনার দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়।

Image

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


১ জুলাই: বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সূচনার দিন, ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী ৩৬ দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ২০২৪ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন।

২০২৪ সালের ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার এবং ২০১৮ সালের কোটা বাতিলসংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র পুনর্বহাল।

আন্দোলনের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশের মাধ্যমে ৪ জুলাই পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল কোটা-সংক্রান্ত নীতিমালা পুনর্বিবেচনার জন্য কমিশন গঠন এবং সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা সংস্কার।

একই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা ও প্রতীকী সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এই আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৫ জুন, যখন হাইকোর্ট সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিভিন্ন কোটা পুনর্বহালের আইনি পরিস্থিতি তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলনে নামেন।

পরবর্তী সময়ে আন্দোলন সারা দেশে বিস্তৃত হয়। ১৫ জুলাইয়ের পর সংঘাতের ঘটনা শুরু হয় এবং ১৬ জুলাই থেকে প্রাণহানির খবর আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আন্দোলনকারী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের দাবি কোটা সংস্কারের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতিবছর ১ জুলাই আন্দোলনের সূচনার দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0