নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮-এর সূচনায় ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফে পরানো হয়েছে নতুন কিসওয়া (গিলাফ)। ঐতিহ্যবাহী এই বার্ষিক আয়োজনের মাধ্যমে মহররম মাসের প্রথম দিনকে বরণ করে নিয়েছে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র এই স্থান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১ মহররম) ভোরে মসজিদুল হারামে আনুষ্ঠানিকভাবে কাবার পুরোনো গিলাফ অপসারণ করে নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয়। পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে।
কিসওয়া পরিবর্তনের কাজ তদারকি করেন শাইখ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইস। কাবার গিলাফ তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সের দক্ষ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদদের একটি বিশেষ দল ১০ ধাপের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কিসওয়া স্থাপন করেন।
প্রক্রিয়ার শুরুতে কাবার চার পাশ থেকে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন কিসওয়ার কাপড় ধাপে ধাপে স্থাপন করা হয়। প্রতিটি অংশ কাবার ছাদ ও কোণার সঙ্গে সংযুক্ত করার পর সেলাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়। সবশেষে কাবার দরজার বিশেষ পর্দা সংযুক্ত করা হয়, যা পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও সময়সাপেক্ষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
জানা গেছে, নতুন কিসওয়ায় মোট ৫৩টি স্বর্ণখচিত অলংকারযুক্ত অংশ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিসওয়ার বেল্ট, ঝুলন্ত অলংকার, ফানুস আকৃতির নকশা, কাবার দরজার পর্দা, ইয়েমেনি কোণের বিশেষ অংশ এবং মিজাবের অলংকার।
প্রতি বছর কয়েক মাস আগে থেকেই নতুন কিসওয়া তৈরির কাজ শুরু হয়। খাঁটি প্রাকৃতিক রেশমের কাপড়ে সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে পবিত্র কোরআনের আয়াত ও নান্দনিক নকশা সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়।
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি কিসওয়া পরিবর্তনের এই আয়োজন মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি পবিত্র কাবার মর্যাদা, ইসলামি সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা এবং দুই পবিত্র মসজিদের সেবায় সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
নতুন হিজরি বছরের প্রথম প্রহরেই নতুন স্বর্ণ-রৌপ্যখচিত কিসওয়ায় সজ্জিত হয়ে বিশ্ব মুসলিমের কাছে নতুন বার্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে পবিত্র কাবা শরিফ।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮-এর সূচনায় ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফে পরানো হয়েছে নতুন কিসওয়া (গিলাফ)। ঐতিহ্যবাহী এই বার্ষিক আয়োজনের মাধ্যমে মহররম মাসের প্রথম দিনকে বরণ করে নিয়েছে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র এই স্থান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১ মহররম) ভোরে মসজিদুল হারামে আনুষ্ঠানিকভাবে কাবার পুরোনো গিলাফ অপসারণ করে নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয়। পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে।
কিসওয়া পরিবর্তনের কাজ তদারকি করেন শাইখ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইস। কাবার গিলাফ তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সের দক্ষ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদদের একটি বিশেষ দল ১০ ধাপের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কিসওয়া স্থাপন করেন।
প্রক্রিয়ার শুরুতে কাবার চার পাশ থেকে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন কিসওয়ার কাপড় ধাপে ধাপে স্থাপন করা হয়। প্রতিটি অংশ কাবার ছাদ ও কোণার সঙ্গে সংযুক্ত করার পর সেলাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়। সবশেষে কাবার দরজার বিশেষ পর্দা সংযুক্ত করা হয়, যা পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও সময়সাপেক্ষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
জানা গেছে, নতুন কিসওয়ায় মোট ৫৩টি স্বর্ণখচিত অলংকারযুক্ত অংশ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিসওয়ার বেল্ট, ঝুলন্ত অলংকার, ফানুস আকৃতির নকশা, কাবার দরজার পর্দা, ইয়েমেনি কোণের বিশেষ অংশ এবং মিজাবের অলংকার।
প্রতি বছর কয়েক মাস আগে থেকেই নতুন কিসওয়া তৈরির কাজ শুরু হয়। খাঁটি প্রাকৃতিক রেশমের কাপড়ে সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে পবিত্র কোরআনের আয়াত ও নান্দনিক নকশা সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়।
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি কিসওয়া পরিবর্তনের এই আয়োজন মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি পবিত্র কাবার মর্যাদা, ইসলামি সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা এবং দুই পবিত্র মসজিদের সেবায় সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
নতুন হিজরি বছরের প্রথম প্রহরেই নতুন স্বর্ণ-রৌপ্যখচিত কিসওয়ায় সজ্জিত হয়ে বিশ্ব মুসলিমের কাছে নতুন বার্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে পবিত্র কাবা শরিফ।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন