কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে মানবিক সংকটের এক করুণ চিত্র দেখা দিয়েছে। পুশ ইন চেষ্টার শিকার ১২ জন নারী, শিশু ও পুরুষ ২৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার কাছাকাছি খেতের আলের ওপর অনিশ্চয়তায় বসে আছেন।
স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্র অনুযায়ী, গতকাল ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সেই চেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই ওই ১২ জন সীমান্তের ভারতীয় অংশের ৫০ গজের মধ্যে একটি পাটখেতের আলের পাশে অবস্থান করছেন।
এ ঘটনায় সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। বিজিবি একাধিকবার পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও বিএসএফ সাড়া দেয়নি। ফলে মানবিক সংকট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বিজিবির প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার জানিয়েছেন, সীমান্তে তাদের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য আবারও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে দুইবার নির্ধারিত সময়েও বৈঠক হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ১২ জনের মধ্যে শিশু রয়েছে, যাদের বয়স মাত্র ১০ মাস থেকে ৪ বছরের মধ্যে। একজন নারী অন্তঃসত্ত্বা বলেও জানা গেছে। তারা রোদে পুড়ে, ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে ভেঙে পড়লেও সীমান্তের ওই সংকীর্ণ জায়গায় আটকে আছেন।
মানবিক দিক থেকে স্থানীয়রা কিছু খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাউরুটি, কলা, দুধ ও পানি দিয়ে তাদের সাময়িক সহায়তা করা হলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই ঘটনা আবারও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের এমন অনিশ্চিত অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে রাখা—এটি আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির দিক থেকেও গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ার প্রাগপুর সীমান্তের এই ঘটনা শুধু একটি সীমান্ত ইস্যু নয়, এটি মানবিক সংকটের এক বাস্তব চিত্র—যেখানে মানুষ আটকে আছে দুই দেশের মাঝে, আর সমাধান এখনো অনিশ্চিত।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে মানবিক সংকটের এক করুণ চিত্র দেখা দিয়েছে। পুশ ইন চেষ্টার শিকার ১২ জন নারী, শিশু ও পুরুষ ২৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার কাছাকাছি খেতের আলের ওপর অনিশ্চয়তায় বসে আছেন।
স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্র অনুযায়ী, গতকাল ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সেই চেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই ওই ১২ জন সীমান্তের ভারতীয় অংশের ৫০ গজের মধ্যে একটি পাটখেতের আলের পাশে অবস্থান করছেন।
এ ঘটনায় সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। বিজিবি একাধিকবার পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও বিএসএফ সাড়া দেয়নি। ফলে মানবিক সংকট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বিজিবির প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার জানিয়েছেন, সীমান্তে তাদের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য আবারও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে দুইবার নির্ধারিত সময়েও বৈঠক হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ১২ জনের মধ্যে শিশু রয়েছে, যাদের বয়স মাত্র ১০ মাস থেকে ৪ বছরের মধ্যে। একজন নারী অন্তঃসত্ত্বা বলেও জানা গেছে। তারা রোদে পুড়ে, ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে ভেঙে পড়লেও সীমান্তের ওই সংকীর্ণ জায়গায় আটকে আছেন।
মানবিক দিক থেকে স্থানীয়রা কিছু খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাউরুটি, কলা, দুধ ও পানি দিয়ে তাদের সাময়িক সহায়তা করা হলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই ঘটনা আবারও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের এমন অনিশ্চিত অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে রাখা—এটি আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির দিক থেকেও গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ার প্রাগপুর সীমান্তের এই ঘটনা শুধু একটি সীমান্ত ইস্যু নয়, এটি মানবিক সংকটের এক বাস্তব চিত্র—যেখানে মানুষ আটকে আছে দুই দেশের মাঝে, আর সমাধান এখনো অনিশ্চিত।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন