English / বাংলা
Editorial News 24

মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ৩ বছর পেছানোর সুপারিশ জাতিসংঘ কমিটির



এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ৩ বছর পেছানোর সুপারিশ জাতিসংঘ কমিটির

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবে ইতিবাচক মত দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। কমিটি ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার সিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করে। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।

সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, কমিটির মূল্যায়নে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রস্তুতির সময়সীমা বৃদ্ধি করা যৌক্তিক হবে। তবে এই অতিরিক্ত সময় দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।

সিডিপির মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্যমেয়াদে এই অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও খুবই কম। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন উত্তরণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কমিটি বাংলাদেশের ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রস্তুতিকাল বাড়ানো হলে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক বাজার ও সহায়তা ব্যবস্থার জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।

সিডিপি একই সঙ্গে উত্তরণ প্রক্রিয়া ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা, বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসিভিত্তিক সুবিধার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আদায় বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়ন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দিয়েছে সিডিপি।কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ নয়; বরং এটি প্রয়োজনীয় সংস্কার আরও দ্রুত বাস্তবায়নের একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ৩ বছর পেছানোর সুপারিশ জাতিসংঘ কমিটির

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবে ইতিবাচক মত দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। কমিটি ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার সিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করে। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।

সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, কমিটির মূল্যায়নে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রস্তুতির সময়সীমা বৃদ্ধি করা যৌক্তিক হবে। তবে এই অতিরিক্ত সময় দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।

সিডিপির মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্যমেয়াদে এই অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও খুবই কম। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন উত্তরণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কমিটি বাংলাদেশের ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রস্তুতিকাল বাড়ানো হলে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক বাজার ও সহায়তা ব্যবস্থার জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।

সিডিপি একই সঙ্গে উত্তরণ প্রক্রিয়া ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা, বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসিভিত্তিক সুবিধার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আদায় বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়ন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দিয়েছে সিডিপি।কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ নয়; বরং এটি প্রয়োজনীয় সংস্কার আরও দ্রুত বাস্তবায়নের একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0