হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এটি এখনই নতুন কোনো মহামারির ইঙ্গিত নয়। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ছয়জনের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং এ ভাইরাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি প্রমোদতরীতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর সন্দেহভাজন আটটি ঘটনার মধ্যে ছয়জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে শনাক্ত হওয়া সব কেসই অ্যান্ডিস ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত ৮ মে পর্যন্ত মোট আটজনের মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া যায়, যার মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। বর্তমানে আক্রান্ত চারজন দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে জার্মানিতে পাঠানো এক সন্দেহভাজন রোগীর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মেডিক্যাল রিপ্যাট্রিয়েশন ফ্লাইটের মাধ্যমে জাহাজে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নেব্রাস্কার ওমাহায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রুজ অপারেটর Oceanwide Expeditions জানিয়েছে, জাহাজটিতে বর্তমানে ১৭ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
প্রাদুর্ভাবের খবর প্রথম প্রকাশের সময়, গত ২ মে জাহাজটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। এর আগেই আরও ৩৪ জন জাহাজ ত্যাগ করেছিলেন। পরে জাহাজটি ৬ মে কাবো ভার্দে থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করে।
ডব্লিউএইচওর মতে, বৈশ্বিক জনসংখ্যার জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি কম হলেও জাহাজে থাকা যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের জন্য ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার। সংস্থাটি ধারণা করছে, প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি জাহাজে ওঠার আগেই আর্জেন্টিনা ও চিলি সফরের সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে জাহাজের ভেতরে এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র : রয়টার্স








