থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ব্যাংককের ক্লোং প্রেম সেন্ট্রাল প্রিজন থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। এক বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সাজা ভোগ এবং প্যারোলের শর্ত পূরণ হওয়ায় তাকে এ মুক্তি দেওয়া হয়।
সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন এবং সেখানে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মুক্তির পর তিনি ও তার পরিবার জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে গাড়িবহর নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
কারাগারের বাইরে তার মুক্তিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় স্থানীয় প্রশাসন। একই সময়ে বিপুল সংখ্যক ‘লাল শার্ট’ পরিহিত সমর্থক তাকে এক নজর দেখতে ভিড় জমান। পরে তাকে ব্যাংককের একটি প্রবেশন অফিসে নেওয়া হয়।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্যারোল কমিটির সভায় থাকসিনসহ ৮৫০ জনের বেশি বন্দির আগাম মুক্তি অনুমোদন করা হয়। বর্তমানে তার বয়স ৭৬ বছর এবং সাজা এক বছরের কম বাকি থাকায় বয়স ও আইনি শর্ত বিবেচনায় তাকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
প্যারোলের শর্ত অনুযায়ী, থাকসিনকে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস পরে থাকতে হবে এবং নিয়মিতভাবে কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
থাকসিন সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। তিনি ২০০১ ও ২০০৫ সালে দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।
২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফিরে এলে তাকে আটক করা হয় এবং বিভিন্ন মামলায় আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার সাজা কমিয়ে এক বছর করা হয়। স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে একসময় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আদালতের সিদ্ধান্তে তাকে আবার কারাগারে ফিরতে হয়।
এদিকে প্যারোলে মুক্তি পেলেও তার বিরুদ্ধে রাজকীয় অবমাননার একটি পৃথক মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৫ সালের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে করা ওই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে আপিল প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র: সিনহুয়া








