মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের খালাসের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেন। ওই রায়ে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় ও পরে আপিল বিভাগে বহাল থাকা দণ্ডাদেশ বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রায়ে বলা হয়, অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের আদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে তা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরে কেরানীগঞ্জ কারাগারের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন, গুরুতর জখম এবং অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাকে দুই, তিন ও চার নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঁচ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছরের এবং ছয় নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে আপিল বিভাগ ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তবে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়, যেখানে মোট ১৪টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
রিভিউ শুনানির পর ২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ পুনরায় শুনানির অনুমতি দেন এবং পরবর্তীতে পূর্ণ আপিল শুনানি শেষে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে খালাস দেওয়া হয়।








