Editorial News 24

সৌদি যুবরাজের অনুরোধেই কি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প?

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পেছনে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের লবিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ Mohammed bin Salman নিজেই এ বিষয়ে সরাসরি লবিং করেছেন বলে চারজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন।

সূত্রগুলো জানায়, গত মাসে যুবরাজ একাধিকবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ফোনে কথা বলেন। প্রকাশ্যে তিনি ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গোপনে মার্কিন হামলার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। ইরানকে তিনি ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্মিলিত কূটনৈতিক তৎপরতা ট্রাম্পকে ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলার নির্দেশ দিতে প্রভাবিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khameneiসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও নীতিগত পরিবর্তন

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী অন্তত এক দশকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না। তবুও এ হামলা চালানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে তেহরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের কয়েক দশকের সতর্ক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সৌদি যুবরাজ এ সুযোগ কাজে লাগানোর পক্ষে মত দেন বলেও জানা গেছে। তাঁর অবস্থানকে সমর্থন জানান সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তাঁর ভাই Khalid bin Salman।

আড়ালে আলোচনা, সামনে চাপ

হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত Steve Witkoff এবং ট্রাম্পের জামাতা Jared Kushner ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিলেন। গত সপ্তাহে জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়। তবে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা বজায় রাখতে চায়—এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।

অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের ওপর হামলায় সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় যুবরাজ সতর্ক করেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফা হামলার পর ইরান সৌদি আরবের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এর জবাবে রিয়াদ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘প্রয়োজনীয় ও চূড়ান্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

শিয়াপ্রধান ইরান ও সুন্নিপ্রধান সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছায়াযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ হামলা সেই দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

ট্রাম্পের ‘বড় সিদ্ধান্ত’

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সামনে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ রয়েছে এবং তা সহজ নয়। পরে ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মার-এ-লাগো রিসোর্টে অবস্থানকালে তিনি হামলার ঘোষণা সংবলিত ভাষণ রেকর্ড করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আকাশপথে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের যে ঝুঁকি ট্রাম্প নিয়েছেন, তার ফলাফল এখন পুরো অঞ্চলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন