গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তার তিন সন্তান ও ভাই। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী মো. ফোরকানকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ফোরকান (৪৫)। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি বাড়িটির নিচতলায় বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), এক বছরের শিশু ফারিয়া এবং শ্যালক রসুল। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে।
কাপাসিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অন্যদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় আলাদা স্থানে। ঘটনাস্থলের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর দাবি, ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, পলাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।








