English / বাংলা
Editorial News 24

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে অতীতকে পেছনে ফেলে একটি নতুন সূচনা বা ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। তাই সমতার ভিত্তিতে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে।সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠককালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা অমীমাংসিত বিষয় থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে বিদ্যমান ইস্যুগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও গঠনমূলক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতি বজায় রাখতে ভারতকে আরও আন্তরিকতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।অন্যদিকে, দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সামাজিক বন্ধন স্মরণ করে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত কেবল ভৌগোলিক সীমানা ভাগাভাগি করে না, একইসঙ্গে দুটি দেশ সমৃদ্ধির যৌথ স্বপ্নও ভাগাভাগি করে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ বা ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইস্যু থাকাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যদি কোনো ইস্যু না থাকে, তবে সেটা প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ হতে পারে না।হাইকমিশনার আরও বলেন, সব বাধা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দুই দেশের জনগণের একটাই মূল প্রত্যাশা—তা হলো একটি সুদৃঢ়, টেকসই ও চমৎকার সম্পর্ক নির্মাণ করা। এটি উভয় দেশের জন্য একটি কল্যাণকর পরিবেশ তৈরি করবে। কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা সম্ভব নয়, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো জটিল বা দুরূহ ইস্যু নেই বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বৈঠকের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ও এক্সট্রাডিশন চুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি উক্ত চুক্তি অনুযায়ী ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য চিহ্নিত পলাতক আসামিদের বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার উদ্দেশ্যে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে বহুল আলোচিত শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও এক্সট্রাডিশন চুক্তির ভিত্তিতে দ্রুত ফেরত প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।বাংলাদেশ সরকারের এই দাবির জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান যে, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রয়োজনীয় আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং পরবর্তীতে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0