সালাহউদ্দিন গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুমের স্পর্শকাতর মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাথমিক তদন্তে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সেনাকর্তা জিয়াউল আহসানসহ একাধিক র্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহায়তায় সালাহউদ্দিন আহমেদকে অপহরণ ও গুমের ঘটনাটি ঘটেছিল। প্রাথমিক তদন্তের তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নির্দেশেই এই ন্যক্কারজনক ঘটনা সংঘটিত করা হয়।ট্রাইব্যুনালের তদন্ত বিভাগ থেকে জানা গেছে, সালাহউদ্দিন আহমেদকে তুলে নেওয়ার পর কীভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং কোথায় তাঁকে বন্দি রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গোপন টিএফআই (টাস্কফোর্স ইন্টেরোগেশন) সেলে আটকে রাখা এবং পরবর্তীতে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর গভীর তদন্ত চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ভুক্তভোগীর প্রাথমিক মৌখিক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।উল্লেখ্য, গুমের শিকার অপর এক ছাত্রদল নেতার জবানবন্দিতেও সালাহউদ্দিন আহমেদকে টিএফআই সেলে আটকে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরের ৩ জুন সালাহউদ্দিন আহমেদ স্বয়ং ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। অভিযুক্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহিদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং এসবি-র সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরায় একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় তিনি বিরোধী দল বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অপহরণের দীর্ঘ দুই মাস পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাঁকে উদ্ধারের কথা জানায় স্থানীয় পুলিশ।পরবর্তীতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৮ সালে দেশটির নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালে আপিল বিভাগ সালাহউদ্দিনকে সব অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ খালাস দেন। ২০২৩ সালে তিনি দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাসের আবেদন করলেও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা বিলম্বিত হয়।অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১১ আগস্ট ট্রাভেল পাস নিয়ে দীর্ঘ ৯ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে অপরাধীদের অতি দ্রুত বিচারে মুখোমুখি করা হবে।