English / বাংলা
Editorial News 24

রেমিট্যান্সের শক্তিতে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতার ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক এবং ঊর্ধ্বমুখী পরিবর্তন এসেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বড় ধরনের লাফ দিয়ে দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বুধবার দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ গণনা পদ্ধতি অনুসরণেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নতুন করে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি আগস্ট মাসের শুরুতে অর্থাৎ ২ আগস্ট গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আইএমএফের পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভে যোগ হয়েছে প্রায় ৬১ কোটি ডলার।অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মোট রিজার্ভের পুরো অর্থ কিন্তু সরাসরি ব্যবহারযোগ্য বা ব্যয়যোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও বিভিন্ন আর্থিক বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়ার পর যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অবশিষ্ট থাকে, দেশের মূল লেনদেনের সক্ষমতা বিবেচনায় সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে এই অর্থকে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসেবে গণনা করে।হিসাবের পদ্ধতি অনুসারে, আইএমএফের বিশেষ উত্তোলন অধিকার (এসডিআর), বিভিন্ন ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিলসহ বেশ কিছু খাতের অর্থ মোট রিজার্ভ থেকে বাদ দেওয়া হয়। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে।সাধারণত একটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকাকে নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরে হিসাব করলে, এই ২৯ বিলিয়ন ডলারের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে অনায়াসে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময়ের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। ফলশ্রুত এতে বৈদেশিক লেনদেনে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ শক্তিশালী ও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

রেমিট্যান্সের শক্তিতে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0