বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে, বিনিয়োগে ইতিবাচক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে এবং দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাবর্ধনে দেশটির সরকার বাংলাদেশে ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিরাপত্তা সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে।সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বৈঠকে তিনি বর্তমান প্রশাসনের নীতি ও সার্বিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার উন্নতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক সংকেত পাঠাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের এখানে যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।বৈঠকে দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সঙ্গে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। সার্জিও গর আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে মার্কিন প্রশাসন সক্রিয় সহযোগিতা দেবে।দ্বিপক্ষীয় অর্থায়ন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশনের (ডিএফসি) সুযোগ সুবিধা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন উদীয়মান শিল্পে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানালে বিশেষ দূত জানান, ডিএফসির অর্থায়ন সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিশীগরই ঢাকায় একটি ‘ইউএস ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা ও গমসহ কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে আমেরিকান বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব মৌলিক খাতে আন্তর্জাতিক মানের বিনিয়োগ এলে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে বিশেষ দূত জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।বৈঠকে মানবিক রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে সার্জিও গর বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের মানবিক সহমর্মিতার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। জবাবে বিশেষ দূত জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান জরুরি এবং এর জন্য আসিয়ানসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।